অণুগল্প

প্রেমনিবাস

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৮

আর কত দেরি বাপু, বয়স তো কম হলো না, এবার সুখের একটা ঘর পাত।

মায়ের কথায় একটু হুমড়ি খেয়ে পড়ল জুগেন। অস্ফুটে বলল, ‘গ্রীষ্মের দহনে প্রকৃতি তৃষ্ণায় যখন জল জল করবে তখন পাতব উত্কৃষ্ট সংসার।’

মা রেগে গেলেন। অমন নয়-ছয় ঘোরপ্যাঁচের কথা একদম বুঝতে পারলেন না। মায়ের রাগ ভাঙাতে কপালে চুমু খেয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল জুগেন, ‘দেখো মা, তোমার কষ্টগুলো আমি বুঝি। দিনভর বিছানায় পড়ে থেকে তোমার আর সময় কাটছে না। কিন্তু কী করব মা, আজকাল মেয়েরা আর মেয়ে নেই। এখন আর এরা সংসার বোঝে না।’

মা কথা কেড়ে নিয়ে বলল, ‘যাই হোক, তুই যেমন বুঝিস বাপ! আমি যে তোর সুখ দেখে যেতে চাই! অন্তত ওপারে এইটুকু স্বস্তি পাব।’

মানুষের অভিলাষের তো আর শেষ নেই। তাছাড়া ক্যান্সার রোগী আর ক’দিন বাঁচে? জুগেনের চোখে জলের কোলাহল। চিবুকে গড়িয়ে পড়া মায়ের চোখের জল মুছতে মুছতে ও বলল, ‘না মা, অমন কুলক্ষণে কথা বোলো না।’

জুগেনের বাবা পাশের ঘরে রান্না করছিলেন। বেশ বয়স হয়েছে। এই বয়সে কই একটু বিশ্রাম নেবেন, তা আর ভাগ্যে নেই। রান্নাবান্না থেকে বাড়ির সমস্ত কাজ করতে হয়। উনুনে একটু বেশি আঁচ পড়াতে মাছভাজা থেকে কেমন যেন পোড়া পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে।

মা স্মিত হেসে বললেন, ‘কিরে? তোর বাবার রান্না হলো? তুই আবার কিছু বলিস না। এই বয়সে এইটুকু করছে তাই তো অনেক।’

মায়ের কথাগুলো শুনে জুগেন একগাল হেসে মাকে বলল, ‘আচ্ছা মা, তোমার মাথা উসকোখুসকো লাগছে। তেল মেখে দিচ্ছি।’

মা বলল, ‘না বাবা। তুই সারা দিন কত খাটিস?’

জুগেন মায়ের চুলে বিলি কেটে বলে, ‘মা তোমরা কী বলো তো? বাবার মতো তুমিও? আমি যদি মেয়ে হতাম তাহলে রোজ দিতাম নিশ্চয়ই! মেয়ের থেকে মায়ের যা প্রাপ্তি সেগুলো ঠিক পেতে, মা।’

অসুস্থ মা ভাবনার গভীরে ডুবে ততোক্ষণে অনুভব করলেন মেয়ের অভাব। নৈসর্গিক মায়া মোহ কেবল একটা অনুভূতি জাগ্রত করে। জুগেন কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। শাক দিয়ে মাছ ঢেকে দেবে, নাকি মা যে নিরাশার রাত্রিতে আশার প্রদীপ জ্বেলে স্বপ্নভঙ্গের জল ফেলছেন তা মুছে দেবে?