জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় আন্তনগর ট্রেনের বিলম্ব, অনুপযুক্ত সময়সূচি এবং ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। প্রতিদিনই বিলম্বে চলছে আন্তনগর অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি। এ ছাড়া যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মধ্যরাতে চলাচল করায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
যাত্রীরা বলছেন, ট্রেনের সময়সূচি সামঞ্জস্য না থাকায় প্রতিদিন দেরিতে পৌঁছায় ট্রেনগুলো। দিনে ঢাকামুখী কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে বাসে যাতায়াত করছেন। এতে ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সরিষাবাড়ী রুটে তিনটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে জামালপুর এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ও যমুনা এক্সপ্রেস। এর মধ্যে জামালপুর এক্সপ্রেস আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ইব্রাহীমাবাদ-সরিষাবাড়ী হয়ে জামালপুর পর্যন্ত চলত। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব (ইব্রাহীমাবাদ) স্টেশনের সংস্কারকাজ চলায় বর্তমানে ট্রেনটি ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর হয়ে ভুয়াপুর পর্যন্ত চলাচল করছে।
রেলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী: জামালপুর এক্সপ্রেস সকাল ১০টায় ঢাকা ছেড়ে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তারাকান্দি পৌঁছানোর কথা, কিন্তু প্রায়ই দেরি হয়। এবং অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারাকান্দি পৌঁছায়। তবে বেশিরভাগ দিন বিলম্বে পৌঁছে। আবার, যমুনা এক্সপ্রেস বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে পৌঁছায়।
দুটি ট্রেন মাত্র ১৫-২০ মিনিটের ব্যবধানে সরিষাবাড়ী স্টেশনে আসা-যাওয়া করে, ফলে ট্রেন চলাচলে জট তৈরি হয় এবং উভয় ট্রেনই সময়সূচি থেকে পিছিয়ে পড়ে। এর ফলে যাত্রীরা গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারেন না, অনেক সময় মাঝরাতেও পৌঁছান ঢাকায়। এতে নারী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
সরিষাবাড়ীর যাত্রী মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রিপন মণ্ডল ও আকলিমা খাতুন বলেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ও অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস প্রতিদিনই দেরি করে আসে ও ছাড়ে। ফলে ঢাকায় পৌঁছতে মাঝরাত হয়ে যায়। রাতে নিরাপদে বাড়ি ফেরা কঠিন হয়ে পড়ে।
তারা জানান, যমুনা এক্সপ্রেস তারাকান্দি থেকে ছাড়ে রাত ২টায়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর সময়। এ সময় ট্রেনে উঠতে গ্রাম থেকে স্টেশনে আসা প্রায় অসম্ভব। অনেকেই আগেভাগে এসে স্টেশনে বা পরিচিতদের বাড়িতে রাত কাটান।
তারাকান্দি স্টেশন মাস্টার মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে চলাচলকারী ট্রেন বিলম্বে যাতায়াত করে। দুইটি ট্রেন মাত্র ১৫/২০ মিনিটের ব্যবধানে চলাচল করে। সকালে বা দুপুরের দিকে এ উপজেলা থেকে ঢাকার দিকে কোনো ট্রেন নেই। ফলে যাত্রীরা দিনের বেলায় ঢাকায় পৌছাতে পারে না। এতে করে আমাদের ট্রেনের যাত্রী দিন দিন কমে রেলের লোকসান বাড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (ঢাকা) ট্রাফিক (পরিবহন) ও জনসংযোগ পরিচালক রুবিনা পারভীন মুঠোফোনে ইত্তেফাককে বলেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ও অগ্নীবিনা এক্সপ্রেস ট্রেন দুইটি চলাচলের সময় এক না। টাঙাইলের ইব্রাহীমাবাদ স্টেশনের নিমার্ণকাজ চলায় ট্রেনটি আপাতত ময়মনসিংহ হয়ে চলাচল করছে। ফলে সময়ের এমন পার্থক্য হয়েছে। স্টেশনের কাজ শেষ হলে আবার আগের রুটে চলাচল করবে। তবে সময়সূচি পরিবর্তনের জন্য ডিজি বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি কতৃপক্ষ আলোচনা করে সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
