প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি আমাদের রাঙামাটি। আর রাঙ্গামাটির অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান শুভলং ঝরনা। চারপাশে পাহাড় ও ঝরনার সমন্বয়ে পর্যটকদের জন্য প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাভূমি বলা চলে এই স্থানটিকে। শুধু জলপথে এই ঝরনায় যাওয়া যায়— তাই পর্যটকেরা এখানে আসতে নৌকা ব্যবহার করে থাকে। ভরাবর্ষা মৌসুমে মূল ঝরনার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযত্নে মুগ্ধ করে। বর্ষা আসার পর থেকেই ডিপার্টমেন্টের সবাই বেশ কয়দিন ধরেই চিন্তা করছিলাম শুভলং যাওয়া যাক। যেই কথা সেই কাজ। এক ছুটির দিনে বের হয়ে পড়লাম ব্যাচের সবাই। দুই দিনের মধ্যে টাকা তোলা, নৌকা ঠিক করা, খাবারের আয়োজন করা— সব হয়ে গেল। সকাল ৯টায় যাওয়ার কথা থাকলেও রওয়ানা দিতে দিতে বেজে গেল সকাল ১০টা। নৌকা ছাড়া মাত্রই আড্ডা আর গানে মুখর হয়ে উঠলাম আমরা সবাই। কখন যে ঝরনায় পৌঁছে গেলাম টেরই পেলাম না কেউ। ভরা বর্ষায় ঝরনার পানি ছিল দেখার মতো। ঝরনায় স্নান করতে করতে কখন যে দুপুর হয়ে গেল কারো খেয়ালই ছিল না। তাড়াহুড়ো করে সবাই দুপুরের খাবার সেরে নিলাম নৌকার মধ্যেই। তারপর ফেরার পালা। আসার পথে আরো একটি ছোট ঝরনায় ভিজলাম সবাই মিলে। বেশ কয়েকটি দ্বীপে নেমে তার সৌন্দর্য উপভোগ করলাম সবাই। বিকাল হতেই সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে এলাম আর সঙ্গে করে নিয়ে এলাম অসাধারণ কিছু স্মৃতি। চাইলে আপনারাও আসতে পারেন প্রকৃতির নিজের হাতে তৈরি করা অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
যেভাবে আসবেনঃ রাঙামাটিতে আপনি বিভিন্নভাবে পৌঁছাতে পারেন। রাঙ্গামাটিতে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ হানিফ, ইউনিক, সাউদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ইত্যাদি। প্রায় ৬০০ টাকা ভাড়ায় ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টায় আপনি ঢাকা থেকে রাঙামাটিতে পৌঁছে যাবেন। এছাড়া আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বাসে যেতে পারেন এবং সেখান থেকে বাসে করে রাঙামাটিতে পৌঁছাতে পারেন। তবে, ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি রাঙামাটিতে আসাই সহজতর হবে। রাঙামাটির তবলছড়ি অথবা রিজার্ভ বাজার থেকে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে শুভলং ঝরনায় যেতে পারবেন। এতে করে আপনাকে প্রায় ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
