প্রকৃতিপ্রেম

এক বৃক্ষপ্রেমীর গল্প

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৯

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেই দেখা গেল একটা বড়ো সাইনবোর্ড লাগানো ‘লায়লা আহম্মেদের তৃতীয় একক বনসাই প্রদর্শনী’ বিষয়টি একটু তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। কে এই লায়লা আহম্মেদ? টাঙ্গাইল শহরে বেড়ে ওঠা লায়লা আহম্মেদ তার স্নাতক পড়াশোনা করেছেন সিদ্ধেশ্বরী কলেজে। উচ্চমাধ্যমিকে সাইন্স থাকলেও স্নাতক পড়েছেন কমার্স নিয়ে। তিনি নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। 

ঢাকায় তার নিজ বাসায় ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছের পাশাপাশি বনসাই করছেন তিনি। ৫০০০ বর্গফুটের ছাদের উপর বিভিন্ন প্রজাতির দেশি, বিদেশি ফুল, ফল, বট, পাকুর, অশ্বথ, ফাইকাস ইত্যাদি প্রজাতির বনসাই করেছেন তিনি। তার ছাদে রয়েছে মাছ চাষের জন্য পুকুরও। সম্প্রতি বেইলি রোডে হয়ে গেল তার তৃতীয় একক বনসাই প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে প্রায় ২০০ প্রজাতির ৫০০ বনসাই তোলা হয়। যেগুলো বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। বনসাই বিষয়ে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ছোটোবেলায় তার বৃক্ষপ্রেমী বাবার গাছপালা পরিচর্যা করতে গিয়ে বৃক্ষ প্রেমে পড়েন তিনি। বই পড়ে শিখেছেন বনসাই করার পদ্ধতি। সহযোগিতা নিয়েছেন ওপার বাংলার বনসাই বিশেষজ্ঞ মহসিন খানের থেকে। তার বনসাইগুলো সাজানোর পাত্রগুলোও একটু ভিন্ন ধরনের শিলা, ঝামা, সামদ্রিক কোরালসহ আকর্ষণীয় সব টবে বনসাই সাজান তিনি। বনসাইগুলো সবই তার নিজের হাতে করা। সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো, এই এত কাজের মাঝেও তিনি তার সংসারের সকল কিছুই নিজে করে থাকেন। সম্পূর্ণ নিজ খরচেই গড়ে তুলেছেন তার এই বনসাই সংগ্রহশালা। তার বাড়ির ছাদে তিনি ইতিমধ্যেই বনসাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়াও শুরু করেছেন। মায়াবি বনসাই নামে একটি ফেসবুক পেইজে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বনসাই বিক্রির কাজ করে থাকেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশ আরবান রুফ গার্ডেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আর তরুপল্লবীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পরিবার বিশেষ করে তার স্বামী এই অগ্রযাত্রায় পাশে আছেন। তিনি করতে চান আরো বড়ো কিছু। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হাতে নিয়েছেন তার নিজের বসবাসের এলাকাকে সবুজ করার উদ্যোগ।