সুনামগঞ্জে নদীতীরে বালু-পাথর ডাম্পিং

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

নদীতীরে বালু-পাথর ডাম্পিং করার কারণে বিপজ্জনক অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের সুরমা নদীর তীর, সদরগড় ও অক্ষয়নগর গ্রামের পাশে ধোপাজান চলতি নদীর তীরের বাসিন্দারা। বালু-পাথর ডাম্পিংয়ের কারণে ভূমিধস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এদিকে, নদীর তীরে যত্রতত্র ডাম্পিং করা বালু-পাথর সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রচারণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বালু সরিয়ে না নিলে বালুর মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বালু-পাথর সরাতে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ধোপাজান চলতি নদীর পাড়ের অক্ষয়নগর এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ওই দিন বালুর স্তূপ নদীতে ধসে পড়ে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদীর তীরে ডাম্পিং করা আরেকটি বালুর স্তূপ ধসে পড়ে। সেই সঙ্গে গাছপালাসহ নদীর তীরের একটি বড় অংশও নদীতে বিলীন হয়। ভূমিধসের ঘটনায় এখন দোকাটপাট, বাড়ি-ঘর ও গাছপালা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অক্ষয়নগর এলাকায় ধোপাজান চলতি নদীতে দুই স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চলতি নদীর একটি অংশ প্রায় ভরাট হয়ে যায়। এ ছাড়া সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জগাইরগাঁও, হবতপুর এবং শ্রীপুর এলাকায় সুরমা নদীর তীরেও একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের মুতওয়াল্লী আকিকুর রহমান বলেন, নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে বোমা (ড্রেজার) মেশিন দিয়ে বালু ডাম্পিং করার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বোমা মেশিন দ্বারা ডাম্পিং করা বালির স্তূপ (স্টেক) হঠাত্ করে ধসে নদীতে পড়েছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে থাকা প্রাচীন বৃক্ষ, বাঁশঝাড়, চলাচলের সিঁড়িঘাট ও রাস্তার কিছু অংশ। এ সমস্যাটি বসতবাড়ির দিকে ধাবিত হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য ছদরুল আলম সাইফুল বলেন, ‘নদীর তীরে বালু ডাম্পিং করার কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। দ্রুততার সঙ্গে এর প্রতিকার হওয়া একান্ত প্রয়োজন।’

সুনামগঞ্জ সদর ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কাজী শামছুল হুদা সোহেল বলেন, ‘যত্রতত্র বালু ডাম্পিং করার কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। ভূমিধসের ঘটনা প্রতিরোধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বালু সরিয়ে নেওয়ার জন্য বালু মালিকদের জানানো হচ্ছে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ উদ্যোগে এই বালু সরিয়ে না নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘নদীর তীরে যত্রতত্র যারা বালু ডাম্পিং করেছেন, তাদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের ডাম্পিংকৃত বালু ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। এজন্য মাইকিং করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বালু-পাথর  স্তূপের মালিকদের নিজ উদ্যোগে এসব বালু সরাতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে বালু-পাথর মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’