হেরে যাওয়াই ব্যর্থতা নয়

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৪

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন মো. মুত্তাকিন হাসান। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুত্তাকিন হাসান বাংলাদেশ এইচআর ক্লাব এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস এইচআর সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বহুজাতিক ফার্মা কোম্পানিতে মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব পালন করা মো. মুত্তাকিন হাসান আমাদের এ আয়োজনে তরুণদের চাকরি-ভাবনা নিয়ে লিখেছেন

যেকোনো বিষয়ে অন্যদের চেয়ে তরুণদের ভাবনা একটু ভিন্ন থাকে। আর সে কারণেই হতাশাও তাদের মধ্যে অনেক বেশি। একটা-দুটো ইন্টারভিউয়ের মুখোমুখি হয়ে চাকরি না পেয়ে হতাশ হন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কাছে চাকরি খোঁজা একটা আতঙ্ক হয়ে ওঠে। হেরে যাওয়াই ব্যর্থতা নয়, আরো একবার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। অনেকে বলেন, বিডিজবস এবং লিঙ্কডইনে তো অনেক সিভি দিলাম কোনো লাভ হলো না। অথচ চাকরি খুঁজতে গিয়ে হয়তো ছোটখাটো ভুলের জন্য তাঁদের চাকরি অধরাই রয়ে যাচ্ছে। কারণ খবরের কাগজের বা অনলাইন পোর্টালের চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখেই আপনি পুরো বিজ্ঞাপনটি ভালোভাবে না পড়ে শুধু পদবীর টাইটল দেখে আবেদন করলেন। তারপর হঠাত্ মোবাইলে এসএমএস বা কলে সাক্ষাত্কার বা লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাক এল। কোন পদের জন্য কোথায় আবেদন করেছিলেন, ইতোমধ্যে আপনি তা অনেকটাই ভুলে গেছেন। তবুও চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশায় এক বুক আশা নিয়ে সাক্ষাত্কার বা পরীক্ষা দিতে গেলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পদের দায়িত্বগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় সাক্ষাত্কার বা পরীক্ষা ভালো হলো না। হতাশা হতাশাই থেকে গেল। তাই সিভি বা রিজিউমি পেশ করার পূর্বে চাকরি বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত প্রধান দায়িত্বগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যাবশ্যক। চাকরির ইন্টারভিউ একটা প্রতিযোগিতার জায়গা। এখানে শুধু ভালো সার্টিফিকেট বা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেই টিকা যায়, কথাটি ঠিক নয়। নিজেকে সুন্দর উপস্থাপনার পাশাপাশি নিজের যতটুকু অভিজ্ঞতা আছে, তা দিয়ে ইন্টারভিউয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে হবে। নিয়োগকর্তা আপনার অপছন্দ হলেও প্রত্যয়ী মনোভাব দেখানো উচিত। কারণ নিয়োগদাতা আপনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। আবেগী মনোভাব ত্যাগ করা দরকার। সময় বিবেচনা না করে একটি চাকরিতে ঢুকেই অন্য চাকরি খোঁজা থেকে বিরত থাকুন। একটা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২-৩ বছর চাকরি করতে হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে অন্য আরেকটি চাকরি খোঁজা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেশাগত জীবনের জন্য ক্ষতিকর। একটা কোম্পানি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে না নিতেই আরেকটি কোম্পানিতে নতুন হিসেবে যোগদান করলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আপনার অস্থিরতা নিয়োগ-পরিচালকদের ওপর নেতিবচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার ওপর নিয়োগ-পরিচালকদের কনফিডেন্স কমে যায়। হতাশা দূরে ঠেলে ইতিবাচক থেকে নিজের প্রতি বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করুন।