রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল) রাঙ্গামাটি কার্যালয়টি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অফিসের মূল ফটকে বসানো আছে রাঙ্গামাটি পৌরসভার উন্মুক্ত খোলা ডাস্টবিন। প্রতিনিয়ত স্থানীয় জনসাধারণ এখানে ফেলছে ময়লা।
ময়লার দুর্গন্ধে যেমন চারপাশের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি টেলিফোন ভবনে সুবিধা নিতে আসা সুবিধাভোগী এবং দর্শনার্থীরা ময়লার দুর্গন্ধে চরম বিপাকে পড়ছেন।
কার্যালয়টি মূল ফটক এবং ফুটপাত দখল করে ঝুপড়ি দোকান স্থাপন এবং হাটবাজার বসানোর কারণে কার্যালয়টির সৌন্দর্য বহুগুণ বিলীন হয়ে গেছে। দোকান এবং হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনার কারণে কার্যালয়টির চারপাশ নোংরা পরিবেশ থাকে সব সময়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জনপদে সর্বপ্রথম টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে আসে তৎকালীন টি এন্ড টি বর্তমানের বিটিসিএল । সে সময়ের টেলিযোগাযোগের একমাত্র ভরসা টি এন্ড টি। এক্সচেঞ্জ সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক ডিজিটাল এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয় ডিসেম্বর-২০০০ সালে। রাঙ্গামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র উত্তর কালিন্দিপুরে বিটিসিএল ভবন অবস্থিত।
রাঙ্গামাটি এক্সচেঞ্জের ধারণক্ষমতা তিন হাজার ৬২। বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ইউনিট নিয়ে রাঙ্গামাটি টেলিকম ডিভিশন গঠিত। রাঙ্গামাটির ৭টি উপজেলা কাউখালী, কাপ্তাই,রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি ও লংগদুতে ২৫০ লাইনের আধুনিক ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ স্থাপন হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও উপজেলাসমূহ হতে গ্রাহকগণ দেশে বিদেশে সহজেই কথা বলতে পারছেন। তাছাড়া জেলা উপজেলার সরকারি-আধা সরকারি দপ্তরে ইনফো সরকারের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় জিপন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাস চাকমা বলেন, টেলিফোন ভবনটির সামনে ঝুপড়ি দোকান স্থাপন এবং রাঙ্গামাটি পৌরসভার ডাস্টবিন দেখে সত্যিই অবাক হয়। এটা কি সরকারি কোনো অফিস নাকি ময়লার ভাগাড়। দীর্ঘ বছর ধরে ময়রার স্তূপ দেখে আসছি। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকর্তারা যায়-আসে, কোনো পরিবর্তন দেখছি না।
একই এলাকার বাসিন্দা আলী আব্বাস বলেন, বিটিসিএল কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উদ্যোগ নিলে কার্যালয়টির সামনে ময়লার ভাগাড়, ঝুপড়ি দোকান, হাটবাজার থাকতে পারে না। তবে কার্যালয়টির কর্মকর্তাদের দায়িত্বের প্রতি অবহেলার কারণে এমন হাল হয়েছে।
শিরীন আক্তার বলেন, অফিসটির সামনে থেকে ময়লার ভাগাড় এবং ঝুপড়ি দোকান, হাটবাজারগুলো এখনি উচ্ছেদ করে সেখানে ফুলের বাগান করে দিলে অফিসিটির সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি আশপাশের পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে। এইজন্য অত্র সরকারি কার্যালয়টির কর্মকর্তাদের দায়িত্ববান এবং সাহসী এবং সৎ উদ্যোগ হাতে নিতে হবে।
রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট কলামিস্ট আনোয়ার আল হক বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল অফিসের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এতে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি শহরের সৌন্দর্য বিলীন হচ্ছে। রাঙ্গামাটি পৌরসভা উদ্যোগ নিলে এখান থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল) রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক এ. জেড এম. তায়ার বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দিকে রাঙ্গামাটি পৌরসভা আমাদের কার্যালয়ের সামনে একটি ডাস্টবিন স্থাপন করেছিলো। আমরা পৌর প্রশাসক বরাবরে এ বিষয়ে একটি মৌখিক ভাবে আপত্তি জানিয়েছিলাম। তবে তিনি আমাদের আপত্তি শুনেনি। সেই সময় পৌর প্রশাসক আমাদের জানিয়ে ছিলো স্থানীয়দের ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই তাই এখানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে।
এ কর্মকর্তা আরও বলেন, কার্যালয়ের সামনে ডাস্টবিন, ঝুপড়ি দোকান এবং হাটবাজারগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা আবারো পৌর প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবো।
রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন বলেন, আমরা শহরে নতুন ডাস্টবিন বসাবো। তখন এসব ডাস্টবিনটি থাকবে না। পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে তার শতভাগ সহযোগিতা থাকবে বলে জানান। এইজন্য তিনি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি (বিটিসিএল) রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে সাক্ষাৎ করার জন্য তার দপ্তরে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
