জগন্নাথপুরে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় ডাক্তার সংকট

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪২

মো. আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

জগন্নাথপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় চিকিত্সক সংকট চরমে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে চিকিত্সা নিতে এসে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। তা ছাড়া শীত মৌসুমে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বলে হাসপাতালে দ্রুত চিকিত্সক সংকট নিরসন প্রয়োজন বলে জানান স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা। ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলাটি গঠিত। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৩টি ইউনিয়নে রয়েছে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ২৯ জন মেডিক্যাল অফিসার এবং ৫ জন উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসারের পদ রয়েছে। ২৯ জন মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ৫ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩ জন। গত রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ২ জন মেডিক্যাল অফিসার আগত নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিকিত্সা সেবা দিচ্ছেন। এসময় রোগীর প্রচণ্ড ভিড় থাকায় বহিঃবিভাগের রোগীরা জরুরি বিভাগে এসে চিকিত্সা নিতে দেখা গেছে।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিত্সকরা হচ্ছেন—উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধুসূদন ধর, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. পরিমল কুমার সেন, কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মৃনাল কান্তি দাশ,  জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. কুনচু আক্তার, মেডিক্যাল অফিসার ডা. শারমিন আরা আশা, মেডিক্যাল অফিসার ডা. সায়খুল ইসলাম, ডেন্টাল সার্জন ডা. নাজমুল ইসলাম মাসুদ। এদের মধ্যে ডা. পরিমল কুমার সেন রয়েছেন ছুটিতে। হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ছাড়াও জরুরি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন মেডিক্যাল অফিসার শারমিন আরা আশা ও ডা. সায়খুল ইসলাম। এদের মধ্যে দিনে বহিঃবিভাগের দায়িত্ব পালন শেষে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকতে হয় ২ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে।

তা ছাড়া, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কামালখাল, মীরপুর ইউনিয়নের হাসান ফাতেমাপুর, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল, আশারকান্দি ইউনিয়নের জহিরপুর, পাইলগাঁও ইউনিয়নের বাংলাবাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় ওই এলাকার জনসাধারণ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া পাটলী, চিলাউড়া হলদিপুর ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও চিকিত্সক না থাকায় রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মির্জা মো. আলী খান রুবেল ইত্তেফাককে জানান, ৩টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ মোট ৫ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে একজন ছুটিতে থাকায় এবং মেডিক্যাল অফিসার সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত রোগীর চাপে এখন দিশেহারা অবস্থা।

উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধুসূদন ধর ইত্তেফাককে জানান,  ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ উপজেলা সদরের ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার সংকট থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। হাওরবেষ্টিত এ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় কর্মরত চিকিত্সকরা নিয়মানুযায়ী সাধ্যমতো চিকিত্সা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীর ভিড় থাকায় নিজেও রোগীদের চিকিত্সা সেবা প্রদান চালিয়ে যাচ্ছি।