প্রাথমিকে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে আবেদন শুরু কাল, অযোগ্য ধূমপায়ী-মাদকাসক্তরা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০০

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে; প্রথম ধাপে যাদের ছয় বিভাগ থেকে বেছে নেওয়া হবে। গত বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের জন্য ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন, যা করা যাবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে ধূমপায়ী ও মাদকাসক্তদের এ পদে আবেদন করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। সংস্থাটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ধূমপানসহ মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে শিক্ষক পদে আবেদন অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’

সহকারী শিক্ষকের এসব পদে বেতন হবে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ত্রয়োদশ গ্রেডে। এদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের প্রবেশপদে ১১তম গ্রেড প্রদান, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিতে আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করবেন সহকারী শিক্ষকরা। এ আন্দোলন সফল করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষক নেতারা বুধবার ঢাকায় প্রস্তুতি সভা করেন। জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পাঁচ সংগঠন একযোগে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে এ আন্দোলনে নামছেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ছয়টি সংগঠন আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে যোগদান করে মাত্র ১৭ হাজার ৬৫০ টাকা বেতন পান, যা বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কাঠানো পরিবর্তন, ভাইভার নম্বর কমল :এ বছর নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামো, বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন ও পরীক্ষার সময়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষা লিখিত ও মৌখিক দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে মোট ৯০ নম্বরের, যেখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বর এবং গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ২০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা হবে ৯০ মিনিট। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। লিখিত পরীক্ষায় পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫, যা মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ। মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একইভাবে ৫ নম্বর পেতে হবে পাশের জন্য। এর আগের বিধিমালা অনুযায়ী, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হতো ৭৫ নম্বরে। আর মৌখিক পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ নম্বর। এর মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকের ফলাফলের ওপর ১০ নম্বর। আর অবশিষ্ট ১৫ নম্বর ছিল প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, প্রকাশক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার ওপর। প্রথম ধাপে প্রকাশিত এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি শুধু রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের জন্য। তারাই এ ধাপে আবেদন করতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রার্থীদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে ১০ হাজার ২১৯টি সহকারী শিক্ষক পদে পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২ দশমিক ২৫ ও ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২ দশমিক ৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি। তবে শিক্ষাজীবনে কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণি অথবা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। টেলিটকের ১২ টাকা চার্জসহ মোট ১১২ টাকা দিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ এবং ঐ বিধিমালার ২ নভেম্বর তারিখের সংশোধন অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিবাহিত নারী প্রার্থীরা আবেদনে তাদের স্বামী অথবা বাবার স্থায়ী ঠিকানার যে কোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে এ দুইটি স্থায়ী ঠিকানার মধ্যে তিনি যেটি আবেদনে দেবেন, তার প্রার্থিতা সেই উপজেলা বা থানার জন্য বিবেচিত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে উপজেলা বা থানাভিত্তিক। প্রার্থী যে উপজেলা বা থানার স্থায়ী বাসিন্দা, তিনি সে উপজেলা বা থানার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। আবেদনে নিজ জেলা, থানা বা উপজেলা ভুল করলে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—নির্বাচিত প্রার্থীকে নিজ উপজেলা বা থানায় চাকরি করতে হবে। তার বদলি নিজ উপজেলা বা থানার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীমিত থাকবে। এর আগে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট রাতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে গত ২ নভেম্বর সংশোধিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ প্রকাশ করা হয়। এতে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক পদ বাদ দেওয়া হয়, যা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এ দুইটি পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’-এ কিছু ‘শব্দগত পরিবর্তন’ আনা হয়েছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বিবৃতিতে বলেন, ধূমপান তরুণসমাজকে নিকোটিন আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিকোটিন কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য ‘দূরদর্শী ও সাহসী উদ্যোগ’।

 

ইত্তেফাক/এএম