খুলনায় ৩৪ ভূমি অফিসে এক মাস ধরে নামজারি বন্ধ!

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

সার্ভারে ত্রুটি

খুলনা অফিস

খুলনায় সার্ভারে ত্রুটির কারণে গত এক মাস ধরে ৩৪টি ভূমি অফিসে নামজারি বন্ধ রয়েছে। ফলে জমি ও প্লট ক্রয়-বিক্রয় এবং প্লান অনুমোদনসহ ভূমি সংক্রান্ত কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অপরদিকে, প্রতিদিন মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমপ্রতি সার্ভারে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

খুলনা জেলায় ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ফুলতলাসহ নয়টি উপজেলা রয়েছে। এ নয় উপজেলায় ২টি পৌরসভা, ৭৪টি ইউনিয়ন ও ৭৫৯টি মৌজা রয়েছে। এ জেলায় মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন। এছাড়া ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩১টি ওয়ার্ড ও ১৮৪টি মৌজা রয়েছে। জনসংখ্যা রয়েছে অন্তত ১৬ লাখ। মোট ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার আয়তনের মহানগরী ও জেলায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন মানুষের জমির নামজারির জন্য ৩৪টি ভূমি অফিস রয়েছে। ভূমি অফিসগুলো হচ্ছে, খুলনা সদর, দৌলতপুর, বারাকপুর, সেনহাটি, তেরখাদা, বারাসাত, নৈহাটী, ঘাটভোগ, ফুলতলা, দামোদর, থুকড়া, রুদাঘরা, শোভনা, বয়ারশিং, শরাফপুর, বটিয়াঘাটা, সুরখালি, বালিয়াডাঙ্গা, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা, পানখালি, তীরডাঙ্গা, সুতারখালী, গড়ইখালী, লস্কর, সোলাদানা, দেলুটি, কপিলমুনি, রাড়ুলি, আমাদী, মদিনাবাগ, মহেশ্বরপুর ও বেতবাগী। কিন্তু এসব ভূমি অফিসে গত ১ জুলাই থেকে সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে জমি-প্ল্লট ক্রয়-বিক্রয় ও প্লান অনুমোদনসহ ভূমি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

নগরীর দৌলতপুর ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মনিরুজ্জামান বলেন, সার্ভার নষ্ট থাকায় ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে নামজারি বন্ধ রয়েছে। ফলে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

নগরীর শেখপাড়ার বাসিন্দা ইকরাম হোসেন জানান, সাড়ে তিন কাঠা জমির নামজারির জন্য দৌলতপুর ভূমি অফিসে এক সপ্তাহ ধরে ১৫ দিন ধরে ধনরা দিচ্ছেন। কিন্তু সার্ভারে ত্রুটি রয়েছে এমন সমস্যার কথা বলে কাজ করছে না অফিস কর্তৃপক্ষ। ফলে জমির নামজারি করতে না পারায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

খুলনা জর্জ কোর্টের আইনজীবী শেখ মফিজ উদ্দিন বলেন, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্লান অনুমোদন দরকার। এ জন্য তার নামে জমির নামজারি করতে হবে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সার্ভারে ত্রুটি থাকায় সদর ভূমি অফিসে এসেও তিনি নামজারি করতে পারেননি। এ অবস্থায় প্লান অনুমোদন করতে না পারায় বাড়ি নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেছে।

ডুমুরিয়ার বাসিন্দা এস এম কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তার কিছু জমি বিক্রি করা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় জমি বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

খুলনা সহকারী ভূমি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বিএম খালিদ হোসাইন সিদ্দিক বলেন, ১ জুলাই থেকে সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সেদিন থেকে নামজারি বন্ধ রয়েছে। ফলে অফিসগুলোতে শত শত আবেদন জমা পড়ে আছে। সার্ভার পরিচালনায় নিয়োজিত এটুআই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা বলছে, দ্রুতই সমস্যা দূর হবে। কিন্তু এখনো ত্রুটিমুক্ত হয়নি। সার্ভার ত্রুটিমুক্ত হলে এক সঙ্গে এতো আবেদনের নামজারি করতে হিমশিম খেতে হবে।

এ ব্যাপারে এটুআইয়ের প্রকৌশলী হুমায়ুন আহমেদ বলেন, ‘৩০০ উপজেলায় অনলাইনে নামজারি করা হচ্ছিল। আরো ১৮৫টি ভূমি অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত চাপে এ সার্ভারে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কারিগরি টিম কাজ করছে, কয়েক দিনের মধ্যে ত্রুটি দূর হবে।’