দুধ সংগ্রহ বন্ধ কোম্পানিগুলোর
হেলালুর রহমান, চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
কোম্পানিগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন চাটমোহরের দুগ্ধ খামারিরা।
ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টারে গত তিন দিন দুধ সরবরাহ করতে না পারায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দুধ সংগ্রহকারী বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠান ও প্রাণ ডেইরি চিলিং সেন্টার, আকিজসহ উপজেলাস্থ সব ডেইরি চিলিং সেন্টার গত রবিবার বিকাল থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে। পাস্তুরিত দুধ উত্পাদন, ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ৫ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উচ্চ আদালত। এরপর থেকেই উপজেলার ডেইরি চিলিং সেন্টারগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। একদিনের ব্যবধানে দুধের দাম লিটারে কমেছে ৩০-৩৫ টাকা।
সোমবার সকালে চাটমোহর নতুন বাজার ও পুরাতন বাজারে দুধ বিক্রি হয়েছে লিটার প্রতি ১৫-২০ টাকা। দুইদিন আগেও দাম ছিল ৫০-৫৫ টাকা লিটার। উপজেলার পৈলানপুর গ্রামের বাসিন্দা মামুন জানান, তার খামারে গবাদি পশু আছে মোট ২২টি। এর মধ্যে গাভী রয়েছে ১০টি। ৭টি গাভী বর্তমানে দুধ দিচ্ছে। দৈনিক গড়ে ৭০ কেজি দুধ দেয় গাভীগুলো। ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার থেকে সপ্তাহে ৪২০ লিটার দুধের বিল (দাম) তোলেন ১৫ হাজার ১২০ টাকা। ৩৬ টাকা দরে দুধ সরবরাহ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে।
তিনি জানান, ৭০ লিটার দুধের পেছনে খরচ হয় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা। ঘাস ও খড়, খৈল-ভূসি কেনা, গরু পরিচর্যা ও দুধ পরিবহন বাবদ এ টাকা খরচ হয়। ৪২০ লিটার দুধে খরচ হয় ১৩ হাজার ১৯৯ টাকা। লাভের টাকায় চলে সংসারের খরচ।
মামুনের ভাষ্যমতে, খামারের জন্য তিনি ব্র্যাকের কাছে থেকে ঋণ নিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মাসে তাকে ২২ হাজার টাকার কিস্তি দিতে হয় ঋণ পরিশোধের জন্য। দুধ বিক্রি থেকেই আসত এ টাকা। শুধু মামুনই নয়, দুধের বাজারে দামের ধস নামায় ঈদের আগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার গরু খামারিরা। বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। একাধিক খামারি বলছেন, ডেইরি চিলিং সেন্টারগুলো দুধ সংগ্রহ ফের শুরু না করলে আন্দোলনে নামবেন তারা।
ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার, পৈলানপুর শাখার ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে সবারই উচিত খামারিদের সঙ্গে থাকা। তিনি জানান, এক লিটার দুধ উত্পাদনে বর্তমান বাজার খরচ ২০ টাকা। অথচ বাজারে ৩১ জুলাই দুধ বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, এই উপজেলার গো-খামারিরা দুধ বিক্রি না করতে পেরে প্রতিদিন ২০ লক্ষাধিক টাকা লোকসান গুণছেন। এভাবে সপ্তাহব্যাপী দুধ ক্রয়কেন্দ্রগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখলে খামারিদের কোটি টাকা লোকসান গুণতে হবে। গো-খাদ্যের অগ্নিমূল্যে বাজারে হঠাত্ করে দুধ বিক্রি বন্ধ থাকায় তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
