বৈরী আবহাওয়ায় সুন্দরবনে জেলেনৌকা বন আইনে হচ্ছে মামলা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২১:২৬

পিরোজপুর অফিস

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার জন্য সুন্দরবনে আশ্রয় নেওয়া মাছ ধরা নৌকার বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেওয়া হচ্ছে। পিরোজপুরের পাড়েরহাটের বিশিষ্ট মত্স্য ব্যবসায়ী ও দুবলা ফিশার মেন গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানুর রহমান শামীম এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, গত সোমবার ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়ার কংসা  জেলেপল্লির দুইটি মাছ ধরা নৌকা দুবলার চরের আলোরকোলে আটক করা হয়। বন বিভাগে আধুনিক টহলদল স্মার্ট টিম এফবি মায়ের দোয়া-১ ও মায়ের দোয়া নামে দুইটি মাছ ধরা নৌকা ১৯ জন জেলেসহ আটক করে বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধের পর উপকূলের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়েই বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েন। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চারটি সামুদ্রিক বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় বাধ্য হয়ে জেলেরা উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসেন। সুন্দরবন উপকূলে সাগরে অবস্থানরত জেলেরা অনেকে দুবলার চর, নারিকেলবাড়িয়া, শেলারচর, কঁচিখালী প্রভৃতি সুন্দরবন এলাকার খালেও আশ্রয় নেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি নৌকার জেলেদের আটক করেন বন বিভাগের স্মার্টটিমের সদস্যরা। শাহানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তিন সপ্তাহ আগে সাগরে মত্স্য আহরণের অবরোধের মধ্যে বঙ্গোপসাগর উপকূল ও সুন্দরবনের ভিতর থেকে বৈরী আবহাওয়া কবলিত ভারতের শতাধিক মাছ ধরা নৌকা জেলেসহ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার করে এবং সসম্মানে সে দেশে ফেরত পাঠায়। অথচ একই ধরনের বিপদের মধ্যে বৈধভাবে মত্স্য আহরণকারী বাংলাদেশের জেলেদের বন বিভাগের স্মার্টটিম আটক করে বন আইনে মামলা দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের (পূর্ব) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আলোরকোল থেকে দুইটি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে। যাদের সুন্দরবনে প্রবেশ করার অনুমতিপত্র বা বোট লাইসেন্স (বিএলসি) নাই। এ কারণে বন আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। দুবলাচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে জেলেরা অনেক সময় সুন্দরবনে আশ্রয় নেন। পাশ-পারমিট না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারণত বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। আমরা অনেক সময় মানবতার বশবর্তী হয়ে ব্যবস্থা নেই না। কিন্তু সোমবার যে দুইটি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে তা খুলনার বন সংরক্ষকের নিয়ন্ত্রণাধীন স্মার্টটিমের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় টহল ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষের করার কিছু নেই। এ ব্যাপারে খুলনার বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।