পর্যটনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অপার। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাইতে পারি নাই; সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধি পাইলেও বিদেশি পর্যটকদের আগমন স্বল্প। নানা সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে পর্যটন খাতে। এই খাতের একটি বড়ো সীমাবদ্ধতা হইল, বিদেশি পর্যটকরা কী সংখ্যায় বাংলাদেশে আসিতেছে তাহার কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কাহারো কাছে না থাকা। এই ব্যাপারে কোনো কৌশলপত্রই গড়িয়া উঠে নাই এতদিনে। অথচ বিশ্বব্যাপী পর্যটনবিষয়ক পরিকল্পনা করা হইয়া থাকে এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করিয়াই। তবে আশার কথা হইল সম্প্রতি এই ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়াছে, তাহারা ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন সিস্টেম’ নামে নূতন একটি সফটওয়্যারের উদ্বোধন করিতে যাইতেছেন যাহার মাধ্যমে কতসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসে তাহার সঠিক পরিসংখ্যান রাখা সম্ভব হইবে। এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা কাটাইয়া উঠা যাইবে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। এরপর অতিবাহিত হয় দীর্ঘ সময়। ১৯৯২ সালে প্রণীত জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় পর্যটনকে প্রথমবারের মতো শিল্প হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেই নীতিমালা হালনাগাদ করিয়া ২০১০ সালে আরো যুগোপযোগী করা হয়। কিন্তু এই নীতিমালার বাস্তবায়ন আর ঘটে নাই। পরবর্তী সময়ে পর্যটনশিল্প এবং সেবার মানোন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০১০ সালের জুলাই মাসে ‘পর্যটন বোর্ড’ আইন প্রণীত হয়। সেই আইনেরও বাস্তবায়ন নাই অনেক ক্ষেত্রেই। বোর্ডের কার্যাবলিতে ‘পর্যটনসংক্রান্ত ডাটাবেজ তৈরি’র কথা বলা হইলেও এই সংশ্লিষ্ট কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এবার নতুন করিয়া উদ্যোগ নেওয়ায় আশাবাদী হইয়াছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।
‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন সিস্টেম’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিমানে ও স্থলপথে ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকদের তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হইবে। আশা করা হইতেছে আগামী চার মাসের মধ্যে এটি তৈরির ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে আগাইয়া যাইবে বাংলাদেশ। ইহার বাস্তবায়ন হইলে বাংলাদেশে পর্যটনক্ষেত্রে নূতন করিয়া কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হইবে। আমরা সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করিয়া কীভাবে আরো বেশি পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি করা যায় তাহা নির্ধারণ করিতে পারিব। পাশাপাশি বিশ্বের পর্যটনক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মতো আমাদেরকেও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনক্ষেত্র গড়িয়া তুলিতে হইবে। পর্যটকরা যাতে এয়ার টিকিট, হোটেল বুকিং, স্পট বুকিংসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও সেবা অনলাইনে পায় সেই অবকাঠামো দাঁড় করাইতে হইবে। ই-কমার্স ট্যুরিজম সাইট হইতে পারে এমন যে তাহা একজন ট্যুরিস্টের যত রকম সার্ভিস দরকার হয় তাহা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ হিসাবে এক ছাদের নিচ হইতেই দিতে পারিবে। তাহাতে পর্যটকদের হয়রানি ও দুশ্চিন্তা দুইটিই হ্রাস পাইবে। আমরা আশা করি এই সমস্ত উদ্যোগ ও সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে উত্তরোত্তর সামনের দিকে আগাইয়া নিবে।
