আলোচনা সভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
জেন্ডার সমতা আনতে নারীর উচ্চশিক্ষার হার বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়াতে হবে। বিসিএস ক্যাডারে নারীর নিয়োগ ও খেলাধুলাসহ নারীর পারিশ্রমিক সর্বক্ষেত্রে পুরুষের সমান করতে হবে। একইসঙ্গে নারীকে আত্মনির্ভরশীল করতে স্কুল পর্যায় থেকে জুডো-ক্যারাটে ট্রেনিং ব্যধ্যতামূলক করতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘এসডিজি গোল-৫ জেন্ডার সমতা অর্জনে বাজেট-২০১৯-২০২০-এর প্রতিফলন ও নারীর অবস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। উইমেন ফর উইমেন—এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্ত বলেন, মহিলাদের উন্নয়নের জন্য আগের তুলনায় এ বছরের বাজেট বেশি। এই বাজেট যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে উইমেন ফর উইমেন-এর সভাপতি ড. নিলুফার বানু বলেন, দেশে নারী-পুরুষের সমতা আনতে সরকার কাজ করছে। তবে সেটা যেন শুধু বাজেট বরাদ্দের ভেতরেই সীমাবন্ধ না থাকে। বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা যেন সঠিক জায়গায় সময়মতো ব্যয় হয়, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। নারীর চলার পথ সুগম করতে সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবকল্যাণে বরাদ্দ অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যবহূত হয়। তিনি সরকারের কাছে আবেদন রেখে বলেন, প্রচলিত আইনের সংশোধন করে অপরাধীর জামিন অযোগ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু চাকরি, শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দিলেই চলবে না, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সকল কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকিয়া কে হাসান বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট এখন আর নতুন কিছু নয়। এ বাজেট ৪টি মন্ত্রণালয় দিয়ে শুরু হলেও এখন সেটা ৪৩টি মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই বাজেটটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এই জেন্ডার বাজেট গত্ বাঁধা, এখানে নতুনত্ব আনতে হবে। তিনি বলেন, নারীর মাতৃত্বকালীন ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়লেও এই ভাতার সুবিধা প্রতিবন্ধী নারীরা পান না এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীর জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারীর জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তার গভীর মনিটরিং দরকার। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ এলাকার নারীর জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার সুপারিশও উঠে আসে সেমিনারে। বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানের মায়ের যে দুর্ভোগ এজন্যও বাজেট বরাদ্দ রাখা দরকার। তারা বলেন, চরাঞ্চলের নারীর স্বাস্থ্য, কৃষিতে মালিকানা, নারীর সম্পত্তিতে কম অংশ পাওয়া, প্রবীণ নারীর কষ্টে কাটানো দিনের কথা, বৃদ্ধাভাতা বাড়ানো নিয়ে ভাবতে হবে। গ্রামীণ কৃষিতে নারীরা বীজ সংগ্রহ করেন; কিন্তু এখন সেই জায়গাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেখানেই আমাদের নজর দিতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ নিতে গিয়ে নারীরা অনেক ধরনের সমস্যায় পড়ছেন, সেই দিকে নজর দেওয়ার সুপারিশ জানান তারা।
উইমেন ফর উইমেন-এর সহ-সভাপতি রাশেদা আক্তার খানমের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সেলিনা খালেক, উবেনিগ-এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, অপরাজেয় বাংলার ওয়াহিদা বানু, অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ, পাক্ষিক অনন্যার সহ-সম্পাদক লাইলি বেগম প্রমুখ।
