অ্যাডিস মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মশা নিধনে নতুন ওষুধ কবে দেশে আনা হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য অ্যাফিডেভিট আকারে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা তা করেননি। আমাদের (আদালত) রুল জারির পর আপনাদের ঘুম ভেঙেছে। এরপর উলটাপালটা বলতে লাগলেন, পরে সরকারের ধমক খেয়ে চুপ হলেন। আদালত বলেন, কেউ যদি জেগে ঘুমায়, তাহলে তাকে জাগানো যায় না। দুই সিটি করপোরেশনের অবস্থা হচ্ছে সেই রকম। মশা নিধনের বিষয়টি আপনারা সিরিয়াসলি (গুরুত্ব) নিচ্ছেন না।
গত ২৫ জুলাই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা হাইকোর্টকে জানিয়েছিলেন যে, ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিয়ে অ্যাডিস মশা নির্মূল করতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কারণ এখন যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে স্নায়ু দুর্বল হয়ে মশা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। কিন্তু মশা নির্মূল হচ্ছে না। ফলে ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলে মশা নির্মূল হবে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিন সময় দেয় আদালত।
রাইফেল আছে গুলি নেই
তিন দিনে উত্তর সিটি করপোরেশনের নেওয়া গৃহীত কার্যক্রম আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। তিনি বলেন, মশা নিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। আদালত বলেন, আমাদের ধারণা, যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এজন্য বিভিন্ন মহল থেকে অধিক কার্যকর ওষুধ ছিটানোর কথা বলা হচ্ছে। আপনার রাইফেল আছে, গুলি নেই, তখন রাইফেল থেকে কী লাভ? আইনজীবী বলেন, চায়না থেকে ওষুধ আনা হবে। সিটি করপোরেশন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে মশা নিধনে। আদালত বলেন, আপনাদের এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
দেশের মশা কে মারবে
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মাইনুল হাসানকে আদালত বলেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর বিস্তার লাভ করেছে। এ ব্যাপারে সরকার কী করছে? আমরা কি প্রত্যেক দপ্তরের লোকদের ডেকে এনে তাদের বক্তব্য শুনব? ডিএজি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে যে আকার ধারণ করেছে তাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। যদি এই প্রচেষ্টা গ্রহণ করা না হতো তাহলে আরো বড়ো আকার ধারণ করত। তবে পুরোনো ওষুধ যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। আদালত বলেন, অর্থমন্ত্রী বলছে ঢাকার মশা মারবে সিটি করপোরেশন। তাহলে দেশের মশা কে মারবে? আমরা নতুন ওষুধ ক্রয় নিয়ে কোনো দপ্তর বা বিভাগের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি দেখতে চাই না।
সরকার ওষুধ এনে দিলে ভালো হয়
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, বর্তমান অবস্থায় সরকার দুই সিটি করপোরেশনকে নতুন ওষুধ এনে দিলে ভালো হয়। তাহলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকবে না। আদালত বলেন, ওষুধের ডোজ বাড়ানোয় মশা মরেছে? আইনজীবী বলেন, মনে হয় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফলাফল পেতে আরো সময় লাগবে। আদালত বলেন, হাসপাতালে যে হারে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে তাতে বোঝা যায় ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে?
