মশা মারতে ভরসা কেরোসিন-ডিজেল!

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২২:০৭

রাজশাহী মহানগরীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে ফগার মেশিনে মশক নিধন কার্যক্রম। কয়েক বছর আগেই ফগার মেশিনে ওষুধ স্প্রে বন্ধ রেখেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। কিন্তু নতুন কোনো পদ্ধতির দিকে এগোয়নি। ফলে মশা মারতে কেরোসিন ও ডিজেলই এখনো ভরসা রাসিকের। একারণে বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন ধারণা থেকেই মশা মারতে ফগার মেশিনের ব্যবহার সেই ২০১৪ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মশক নিধন বলতে কেরোসিন ও ডিজেল নির্ভর লার্ভা (ডিম) ধ্বংস কার্যক্রম মাঝেমধ্যে চলছে। রাসিকের তথ্যমতে, মশা নিয়ন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর উভয় মৌসুমে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা জরুরি। মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রমে প্রয়োজন অন্তত ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু এখন আর কোনো কীটনাশক ব্যবহূত হচ্ছে না। তাই কেরোসিন ও ডিজেলের মিশ্রণই ভরসা। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত বলেন, রাসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চলছে বিচ্ছিন্নভাবে। কেরোসিন-ডিজেল ছিটানোর পাশাপাশি প্রয়োজন একইসাথে সকল ড্রেন পরিষ্কার করা। যাতে পানি ড্রেনের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্কাশন হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি চালু রয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন বলেন, এখাতের জন্য সিটি করপোরেশনে একজন বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা থাকার কথা। কিন্তু নেই। অতীতে মশা মারতে নানা দুর্নীতি করে বিপুল টাকা লুটপাট হয়েছে। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর দায় থেকে রেহাই      পাবে না কেউই। তবে রাসিক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ঢাকায় ডেঙ্গুর যে প্রকোপ, তাতে আমরাও আর নিরাপদ নই। কারণ, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মানুষ ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে এসেছে। এজন্য নগরীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ। তবে কেবল সরকার বা সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সফলতা পেতে জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।