গাইবান্ধায় সাঁওতালদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন স্মারকলিপি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২২:০৭

গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সাঁওতালরা গতকাল গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের নিকট এ ঘটনার বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ঘটনার দুই বছর আট মাস পর তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) গাইবান্ধা ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হাই সরকার ২৮ জুলাই এই অভিযোগপত্র গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে জমা দেন। এতে   গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল আহম্মেদ শাকিল, একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহ আলম ও আইয়ুব আলী, চিনিকলের (জিএম-অর্থ) নাজমুল হুদা, চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলালসহ ৯০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।  অপর দিকে একই সময়ের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে হামলায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ায় পুলিশ বাদী মামলায় একই দিন ৩৯ জন সাঁওতালকে অভিযুক্ত করে একই আদালতে আরেকটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জুলফিকার আলী ভুট্টু এই চার্জশিট দাখিল করেন।

গোবিন্দগঞ্জ সাঁওতাল পল্লি মাদারপুর থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ সাঁওতাল নেতা-কর্মীরা ফেস্টুন ও পতাকা নিয়ে গাইবান্ধা শহরে এসে বিক্ষোভ মিছিলসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মানববন্ধন শেষে শহরের ডিবি রোডের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বক্তব্য রাখেন। কমিটির সভাপতি ফিলিমন অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রায় তিন বছর পর চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত আগুন লাগানোর ফুটেজ, ছবি প্রকাশ পেলেও পিআইবির তদন্তকারী কর্মকর্তারা তা এড়িয়ে গেছেন। পুলিশ প্রভাবিত হয়ে এই চার্জশিট প্রদান করেছে। তাই তারা এই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করেছেন।