স্পোর্টস রিপোর্টার
এবার শেখ রাসেলকে হারাতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। গোলশূন্য ড্র করে ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে বসুন্ধরাকে। ড্র হলেও এই নবাগত স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ঝুলে থাকল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। শেখ রাসেলকে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক ম্যাচ। ডি গ্রুপে শেখ রাসেল এবং শেখ জামালের শেষ খেলার ওপর নির্ভর করবে এদের মধ্যে কোন দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে।
কঠিন লড়াই হবে শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলের মধ্যে। বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ দারুণ খুশি, সেদিন খেলা দেখতে মাঠে থাকতে চান। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শেষে ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার বু্রজেন বলছিলেন ওই ম্যাচে আমাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। তাই আমাদের কাছে শেখ জামাল এবং শেখ রাসেলের খেলাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে বসুন্ধরা এবং শেখ রাসেল লড়াই করেছিল সেমিফাইনালে। ১১৮ মিনিটে গোল করে বসুন্ধরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। সেই খেলায় বদলি খেলতে নেমে গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ। ইনজুরি নিয়ে গোল করে ম্যাচ জেতানো কঠিন। স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে মারামারির ঘটনায় সবুজ বহিষ্কার হয়েছেন। যে কারণে এবার তাকে দেখাচ্ছে না। দর্শক মহলে গুঞ্জন উঠল সবুজ নেই জেতা হলো না বসুন্ধরার। বসুন্ধরার বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলা স্ট্রাইকার কলিন্দ্রেস পারলেন না সবুজর কথা ভুলিয়ে দিতে। পারলেন তার দলকে জেতাতে।
কোস্টারিকার এই ফুটবলার কলিন্দ্রেস অনেক ভালো মানের। কিন্তু শেখ জামালের জালে বল রাখতে না পারার আক্ষেপ করতে করতে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলেন। তাঁর সব চেষ্টা বৃথা গেছে বৃথা গেছে কিরগিজ ফুটবলার বখতিয়ারের চেষ্টা। বখতিয়ার এবং কলিন্দ্রেস দুজন মিলে শেখ রাসেলের রক্ষণ ভাগে সেভাবে ফাটল ধরাতে পারেননি। শেখ রাসেলের কোচ সাইফুল বারী টিটু কাগজে-কলমে ছক করে মাঠে গিয়েছিলেন যেকোনো ভাবেই হোক বখতিয়ার এবং কলিন্দ্রেসকে আটকাবেন। তার নির্দেশনায় আরিফুল ইসলাম, ইয়াসিন খান, নাইজেরিয়ান উদুকা এলিসন, বিশ্বনাথ ঘোষ দারুণভাবে ঘরের আঙিনা পাহারা দিয়েছেন।
পাহারা দিতে বসে এই চার ডিফেন্ডার একটি বারের জন্য মুষড়ে পড়েননি। টিটুর প্রেসক্রিপশন অনুসারে কাজ করে লাভবানই হয়েছে শেখ রাসেল। তার ওপর শেখ রাসেলের দেলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম রানা ছিলেন গোলপোস্টের অতন্দ্র পহরী। আস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন জাতীয় দলের এই গোলকিপার।
শেখ রাসেলও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। পরিশ্রমী ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদ দারুণ লড়াই করে সুযোগ তৈরি করতে কাজ করে গেছেন। কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। খেলার শেষ দিকে বসুন্ধরার কলিন্দ্রেসের একটা দুর্দান্ত শট শেখ রাসেলের গোলকিপার রানা দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে বিপদ মুক্ত করে দলকে বাঁচিয়েছেন।
আজকের খেলা
চট্টগ্রাম আবাহনী ও রহমতগঞ্জ। মোহামেডান ও নোফেল । ৩টা ও ৫টা ১৫, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
