শীতের আগমনী বার্তায় পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে রাঙামাটির পাহাড়

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:০৪

ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় রূপে সজ্জিত পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সারা বছরই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণের এক অপার ঠিকানা। তবে হেমন্তের আগমনে পাহাড়, অরণ্য, কুয়াশা আর নীল আকাশের অপূর্ব সমন্বয়ে রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আর সেই রূপ দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে পাহাড়ি জনপদটিতে।

বাংলা মাস কার্তিকের বিদায়ে অগ্রহায়ণের যাত্রা শুরুতেই কুয়াশার চাদরে মোড়া পাহাড়ি সকাল জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এ সময় পাহাড় নবরূপে ধরা দেয় পর্যটকদের কাছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, হেমন্তকাল ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকায় পর্যটকেরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। এজন্য পর্যটন স্পট, হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, শীতের শুরুতেই হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় আগাম বুকিং বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো হল: রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতু,  পলওয়েল পার্ক, সুবলং ঝারণা, কাপ্তাই হ্রদ,আসামবস্তী-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক জুড়ে গড়ে উঠা পর্যটন স্পট বার্গি লেক, বেড়ান্যে লেক, রাইন্যা টুকুন,কাপ্তাই উপজেলার কাপ্তাই বাঁধ, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিল,ওয়াগ্যাছড়া টি হাউজ,নিসর্গ পড হাউজ, নেভি ক্যাম্প পিকনিক স্পট,বরকল উপজেলার সুবলং ঝর্ণা এবং দুর্গম জনপদ বাঘাইড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন স্পট। ইতোমধ্যে এসব স্পটে পর্যটকদের পদচারণা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা নবদম্পতি নাবিল আহমেদ বলেন, জীবনে প্রথম রাঙ্গামাটিতে এলাম। এতটা সুন্দর হবে ভাবিনি। ঝুলন্ত সেতু দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এখন কাপ্তাই হ্রদ ও সুবলং ঝর্ণা যাবো, তারপর ছুটে যাবো সাজেকে।

তার স্ত্রী সাজিয়া আক্তার বলেন, পাহাড়ি এলাকার সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কয়েকদিন এখানে থেকে পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।

ঢাকার গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক মেহেদি হাসান বলেন, আমরা ব্যবসায়ী দল নিয়ে এসেছি। সবাই খুবই খুশি। রাঙ্গামাটি সত্যিই অনন্য।

রাঙ্গামাটি টুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রমজান আলী জানান, পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। আমরা নৌকা প্রস্তুত রেখেছি। সব ঠিক থাকলে এ মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, গত কয়েকদিনে ৫০০–৬০০ পর্যটক রাঙ্গামাটিতে এসেছেন। হোটেল-মোটেলের ৩০% বুকিং হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পর্যটকদের ঢল নামবে।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, কয়েকদিনে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে। বুকিং ভালো চলছে। সামনে আরও বাড়বে।

ইত্তেফাক/এএইচপি