ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদ

‘মতভেদ থাকলেও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য বাধাগ্রস্ত হবে না’

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৯

বিএনপি-জামায়াতের অনৈক্য ও চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। বিবাদমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এমন ব্যবস্থা চাই যাতে ভিন্নমতের কেউ প্রতিহিংসার শিকার না হয়। আমরা ভিন্ন মতের বা ভিন্ন দলের হতে পারি কিন্তু ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য এক। ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির অনৈক্যের নেপথ্যে ফ্যাসিস্ট রেজিম ও বিদেশী শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) এফডিসিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে অতিথির বক্তব্যে মায়ের ডাক-এর প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা—১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে একই আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, বিএনপি জামায়াতের এখন যে তর্ক চলছে তাতে কোনো দলই পারফেক্ট নয়। এই বিতর্কের মাধ্যমেই জনগণের রায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য বাধাগ্রস্ত হবে না। আমরা ফ্যাসিবাদের কালো চেহারা দেখেছি। তরুণরাই ফ্যসিবাদকে লাল কার্ড দেখিয়ে আমাদের মুক্ত করেছে। ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। এজন্য রাজনীতিবিদসহ সকলকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। 


হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। এবারের নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মতভেদ যেন সংঘাতে না গড়ায়। রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকায় দেশে ১/১১–এর মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে নিজেদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাদের মধ্যে নির্বাচনের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দূরত্ব আরও কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তাতে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে “ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য হলেই গণতন্ত্র টেকসই হবে” শীর্ষক ছায়া সংসদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন ও সাংবাদিক আহমেদ সরওয়ার। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

 

ইত্তেফাক/এসএএস