ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলকাতা যেভাবে সফল

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৯, ০০:৪৯

বাংলাদেশ যখন ডেঙ্গু প্রকোপে ভুগছে, তখন কলকাতা শহরে ডেঙ্গু গত কয়েকবছর ধরেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কলকাতা কর্পোরেশন বলছে, তারা সারা বছর ধরে নিবিড় নজরদারি চালায় যাতে কোথাও পানি না জমে থাকে। এজন্য বহু কর্মী যেমন আছেন, তেমনি এবার একাজে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন।

একটা সময় ছিল যখন বর্ষা শুরু হলে কলকাতা কর্পোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে নামতো। কিন্তু ততোদিনে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তো শহরের নানা স্থানে। কলকাতার ডেপুটি মেয়র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলছিলেন, তারা কয়েকটা স্তরে সারা বছর নজরদারি চালান। অতীন জানান, প্রথমত, ১৪৪ টা ওয়ার্ডের প্রতিটাতেই আমাদের ২০ থেকে ২৫ জন করে কর্মী আছেন, যাদের মধ্যে একদল প্রচারের কাজ চালায়, অন্য দল কোথাও পানি জমছে কি না সেটার ওপরে নজর রাখে। এছাড়া আছে ১৬টি বরোর প্রত্যেকটির জন্য একটা করে র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম। তাতে ৮ থেকে ১০ জন লোক থাকে যাদের কাছে সব ধরনের সরঞ্জামসহ গাড়িও থাকে। কোথাও ডেঙ্গুর খবর পাওয়া গেলে অতি দ্রুত সেখানে প্রতিনিধিরা গিয়ে এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন। কোনো ভবনে পানি জমা থাকলে সেগুলোর ওপর এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করতে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। আবার পানি পরিষ্কার করে দেওয়ার খরচ বাবদ বিল, বাড়ির বার্ষিক করের বিলের সঙ্গে পাঠিয়ে দিচ্ছে কর্পোরেশন। 

নজরদারি ভালো করে চালাতে এবার আকাশে ড্রোন ওড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে যা থেকে মশা মারার তেলও ছড়ানো যাবে। কর্পোরেশন শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডে রোগ চিহ্নিতকরণ আর চিকিত্সার ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে। অতীন ঘোষ বলেন, ভারতের বেশিরভাগ ল্যাবরেটরিই এখনো বেসরকারি। তাদের কাছ থেকে ঠিকমতো তথ্য কখনো পাওয়া যায় না। তাই বোঝা যাচ্ছিল না যে কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এ সমস্যা কাটাতে ১৪৪ ওয়ার্ডেই একজন করে কর্মী রেখেছি, যার একমাত্র কাজ হলো ওই এলাকায় যতো হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে, সেখানে একটা খাতা নিয়ে হাজির হওয়া। তাঁর কাজ রোগীর রক্ত পরীক্ষাসহ সব ধরণের পরীক্ষা এবং পরীক্ষার ফল নোট করে আনা। সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য অনলাইনে পৌঁছে যায় বরো ভিত্তিক মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ টিমের কাছে। এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কলকাতায় যে ডেঙ্গু বা তা থেকে মৃত্যু হচ্ছে না তা নয়। কর্পোরেশন ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য চেপে যায় বলে অভিযোগ নানা মহলে। অতীন ঘোষ অবশ্য বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটা বলার অধিকার নেই করপোরেশনের। সরকারের একটা ডেথ অডিট কমিটি আছে। কারো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর জানা গেলে সব তথ্য ওই কমিটির কাছে পাঠাতে হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা আছেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যু কিসে হয়েছে।