ওয়াসার পাতলা খান লেন ও মিরপুর জোনের পানির মান সন্তোষজনক বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেশ করে ওয়াসার আইনজীবী আদালতে বলেন, পানিতে ক্লোরিন দেওয়া রয়েছে। এই ক্লোরিন ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ক্লোরিনের উপস্থিতি না থাকলে পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যাবে। ক্লোরিন থাকায় এসব জোনের পানিতে এখন ব্যাকটেরিয়া নেই। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) ও বুয়েটে এই দুটি জোনের পানি পরীক্ষা করে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনের ওপর স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চেয়েছে আদালত। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, বিষয়টি খুবই কারিগরি। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের মতামত চাওয়া হচ্ছে। কারণ বিশুদ্ধ বা নিরাপদ পানি নগরবাসীকে সরবরাহ করা ওয়াসার দায়িত্ব।
এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সরকার। ঐ কমিটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াসার কয়েকটি জোনের পানিতে ফেকেল ও ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া আছে। এরপরই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ওয়াসা কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ঐ দুই জোনের পানি সংশোধন করা হয়েছে। পরে স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ওয়াসার আইনজীবী এ এম মাসুম বলেন, ওয়াসার পানির লাইন ২০/২৫ ফুট গভীরে। সড়কে নানা সংস্কার কাজ করায় অনেক সময় এই পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাদের কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা ওয়াসাকে জানায় না। আর ওয়াসা যখন জানতে পারে ততক্ষণে পানির লাইনে ময়লা প্রবেশ করে।
রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, বুয়েট ও আইসিডিডিআরবিতে পানির যে টেস্ট করিয়েছে তার স্যাম্পল তো ওয়াসা দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।
