টানা বর্ষণ ও বন্যায় ভিয়েতনামে কমপক্ষে ৪১ জনের প্রাণহানি

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯

টানা বর্ষণের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়েছে, এতে কমপক্ষে ৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। 

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সপ্তাহান্ত থেকে অবিরাম বৃষ্টি ও বন্যায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে। 

এই ভয়াবহ বন্যায় ৫২ হাজারের বেশি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দেড় মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা কিছু জায়গায় ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার ৫.২ মিটার রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ছবি: ডয়চে ভেলে

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে উপকূলীয় শহর হোই আন ও না চাংও রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা ঘরবাড়ির ছাদে মানুষ আটকে আছে, আর বাড়ির ভেতর দিয়ে ক্রমেই পানি ঢুকে যাচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে লাম ডং প্রদেশের একটি ঝুলন্ত সেতু নোঙর ছিঁড়ে ভেসে যেতে দেখা যায়। প্রদেশটিতে ভূমিধসের কারণে প্রধান সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। 

না চাংয়ের এক রেস্তোরাঁ মালিক এএফপিকে জানান, তার দোকানপাট প্রায় এক মিটার পানির নিচে এবং বৃষ্টি না থামায় শিগগিরই পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ছবি: কেএনএস-টিভি

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভিয়েতনাম একের পর এক বিরূপ আবহাওয়ার মুখে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে কালমেগি ও বুয়ালয় নামে দুটি টাইফুন আঘাত হানে। সরকারি হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভিয়েতনামের ক্ষতি হয়েছে ‘২ বিলিয়ন ডলারের’ মতো। 

এদিকে, বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে কয়েক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয় তৈরিতে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

ইত্তেফাক/টিএইচ