ইরানকে চাপে রাখতে পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইরানের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওই কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জন সি স্টেনিসসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষে যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত মার্চে পারস্য উপসাগর থেকে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ফেরত আসার পর প্রথমবারের মতো সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ক্ষমতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
গত সপ্তাহে ইরান পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মাঝারি পাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। এ ছাড়া, সমপ্রতি হরমুজ প্রণালিতে ‘সাহান্দ’ নামের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি স্টিলথ যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে তারা। এ জাহাজে ভূমি থেকে ভূমি ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া, এতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধাস্ত্রও সংযোজন করার ব্যবস্থা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবের সরাসরি জবাব দিতেই যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই যুদ্ধজাহাজে থাকা জঙ্গিবিমানগুলো ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে চলমান মার্কিন সামরিক জোটের অভিযানে অংশ নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এ দিকে, মঙ্গলবার ইরানের তেলের চালান আটকানো হলে পারস্য উপসাগর দিয়ে সব দেশের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ছয় জাতির পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেরিয়ে আসা এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
