নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা ভূমিকম্পে নিহত আব্দুল হক ও কুলসুম বেগম দম্পতির ছোট সন্তান ফাতেমা খাতুনকে দাফন করা হয়েছে। ফতেমার দাফনের খবর এখনও জানতে পারেননি তার মা কুলসুম বেগম। একই দুর্ঘটনায় দেয়াল চাপায় হাসপাতালে শয্যাশায়ী তিনি।
আর আহত স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে দিশেহারা শিশুটির বাবা আব্দুল হক।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাতে শেষ পর্যন্ত মা-বাবাকে ছাড়াই ভূমিকম্পে নিহত শিশু ফাতেমাকে দাফন করা হয়েছে তাদের বাড়ির পাশের কবরস্থানে- আব্দুল হকের প্রতিবেশীরা ঠিক এমনটাই জানালেন। আর দাফনের খরচ হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ২২ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে প্রাণ হারায় ফাতেমা।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পে নিহত দশ মাস বয়সের শিশু ফাতেমা খাতুনের বাবা আব্দুল হক জানাজার নামাজে অংশ নিতে পারেনি। মেয়েকে চিরবিদায় জানাতে পারেননি মা কুলসুমও। ফাতেমার সঙ্গে তার মা কুলসুম বেগম দেয়াল চাপায় গুরুতর আহত হন। এতে প্রাণ ঝরে যায় ছোট্ট ফাতেমার। এরপর থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতেই মরিয়া হয়ে হাসপাতালে ছুটছেন আব্দুল হক। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নিজের সন্তানের জানাজায় আসতে পারেন নি তিনিও। এমনকি মা কুলসুম বেগম জানেন না তার সন্তান ফাতেমা খাতুন বেঁচে নেই। অন্যদিকে এ দুর্ঘটনার সময় ফাতেমা খাতুনের বোন নুসাইবা জান্নাত ছিলেন নানা বাড়িতে।
প্রতিবেশী ইমতিয়াজ ভুঁইয়া রনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় ফাতেমা মায়ের কোলে ছিল। ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটে যাওয়ার পথে প্রতিবেশীদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ধসে পড়া অংশ সরিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। সেসময় মা কুলসুম বেগম অজ্ঞান ছিলেন। এসময় আহত জেসমিন আক্তার নামে এক নারীকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বাবা-মাকে ছাড়াই বাড়ির পাশে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে ফাতেমাকে দাফন করা হয়।
নিহত ফাতেমার খালু মোহাম্মদ হোসেন বলেন, কুলসুম বেগমের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু নিহত শিশু ফাতেমার বাড়িতে এসেছিলেন। সবাই খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাচীরটি অন্তত ১০ ফুট উঁচু ছিল। কিন্তু রডের কোনো অস্তিত্ব সেখানে নেই। এমনকি উঁচু দেয়ালের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো পিলারও ছিল না। নিয়ম-কানুন না মেনেই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও দেয়াল উচ্ছেদ করা হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে সবচেয়ে বেশি—পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে নরসিংদীতে। ঢাকায় চার ও নারায়ণগঞ্জে একজন মারা যান। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এ ছাড়া কিছু ভবন হেলে পড়ে ও ফাটল দেখা দেয়।
