আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলায় পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণে নারী ও শিশুসহ একাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এনিয়ে পশতুন সুরক্ষা আন্দোলন (পিটিএম)–এর নেতা মনজুর পশতিন বলেন, খোস্তের গুরবুজ জেলায় পাকিস্তানি বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিরীহ নারী-শিশুর মৃত্যু অমানবিক, ইসলামবিরোধী এবং আন্তর্জাতিক সব আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা ও অবমাননার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, হামলার পাশাপাশি ইসলামাবাদে ইউরোপগামী আফগান অভিবাসীদের ওপরও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সহিংস অভিযান চালাচ্ছে।
মনজুর পশতিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শিশু ও নারী হত্যার পাশাপাশি নিরীহ অভিবাসীদের ওপর নিগ্রহ কখনও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই হিসেবে গণ্য হতে পারে না—এটাই প্রকৃত সন্ত্রাসের পরিচয়।
পশতিন দাবি করেন, সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি অজুহাত মাত্র। প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে পশতুন নারী ও শিশু এবং তাদের পরিবার ও বাসস্থান।
তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগান জনগণকে নিপীড়ন করছে এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ চালিয়ে আসছে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রভাবে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে—যার মূল লক্ষ্য চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং অঞ্চলটিতে স্থায়ী প্রভাব বজায় রাখা।
তার ভাষ্যমতে, পাকিস্তান এমনভাবে পরিস্থিতি পরিচালনা করছে যে চীন সংকটটিকে প্রকৃত সমস্যা মনে করছে, ফলে নিরাপত্তার আড়ালে পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করছে এবং অজান্তেই পশ্চিমা স্বার্থে তৈরি করা এই সংকটকে সমর্থন করছে। পাকিস্তান উভয় দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে।
পশতুন অঞ্চলে এই পরিকল্পিত সংঘাতের কারণে, পাঞ্জাবি জেনারেলরা কিছু পশতুন রাজনীতিবিদ, স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিকদের ঘুষ দিয়ে বিভেদ, অবিশ্বাস ও অঐক্য সৃষ্টি করছে, যাতে পশতুনরা একত্র হয়ে এই সাজানো সংকটের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে।
পশতিন তার সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও মন্তব্য করেছেন, ওরা মনে করছে লাহোর, ইসলামাবাদ ও ফয়সালাবাদ শান্তি ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। আর পশতুনরা থাকবে শোক ও হাহাকারের ছায়ায়—নারী-শিশুর কবরস্থান, নিখোঁজ যুবক, হতভাগ্য প্রবীণ এবং কোয়েটা থেকে পেশোয়ার, ওয়াজিরিস্তান থেকে সোয়াট পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাণিজ্য কেন্দ্র নিয়ে।
