চুয়েটে অনুষ্ঠিত হলো ‘টেলিভার্স ১.০’

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৫১

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘টেলিভার্স ১.০’। চার দিনব্যাপী ভিন্নধর্মী এ উৎসবে ৪টি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, একটি অন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সেমিনারসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সরব হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

জাঁকজমকপূর্ণ এ উৎসবটি শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় ফ্ল্যাশমবের মাধ্যমে। দ্বিতীয় দিন শুক্রবারে আয়োজিত হয় ‘আইওট্রিক্স অ্যান্ড এপিআই এভেঞ্জারস’ নামে ২টি হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা। সেখানে শিক্ষার্থীরা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক সমস্যার সমাধান করেন এবং সেই সমাধান কীভাবে ব্যবসায়ে রূপান্তর করা যায় ও বিনিয়োগের জন্য এর উপযোগিতা তুলে ধরেন। দেশের প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১১৯ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

উৎসবের তৃতীয় দিনে আয়োজিত হয় ‘এআই ফিকেশন’। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করাই লক্ষ্য ছিল এই প্রতিযোগিতার। এর চূড়ান্ত পর্বে বুয়েট, ঢাবি, শাবিপ্রবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে। এছাড়া একই দিনে ‘টকবাইট’ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর অনন্য জামানসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিবিদ অতিথিরা বক্তব্য দেন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) চার দিনব্যাপী এ উৎসবের ইতি টানা হয়। এদিন বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইটিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ ফুয়াদ খান বলেন, “চুয়েটের ইটিই বিভাগের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট ‘টেলিভার্স ১.০’-এর অংশ হিসেবে মোট ৪টি জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা দিনভর এগুলোতে বেশ উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন। তারা আমাদের আয়োজন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এটিই আমাদের মূল পাওয়া।”

চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, ‘ইটিই বিভাগের এই ধরণের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যতে প্রযুক্তির নেতৃত্ব হিসেবে তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

উল্লেখ্য, ‘টেলিভার্স ১.০’-এর ৪টি প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য ছিল প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার। অনুষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিইপিসিএল)।

ইত্তেফাক/এসএএস