অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার নতুন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছেন নোয়া জোনস ও ম্যাসি নেল্যান্ড নামে দুই কিশোর-কিশোরী।
একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় আদালতে লড়া এই দুই কিশোর-কিশোরীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেয়ে সরকার ও সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর উচিত ক্ষতিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলায় বেশি মনোযোগ দেওয়া।
আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের আওতায় মেটা, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ তাদের সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। সরকার ও সমর্থকরা বলছেন, ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অ্যালগরিদম থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ১৫ বছর বয়সী নোয়া জোনস যুক্তি দেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা শিশুদের অধিকারকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করার শামিল। নোয়া বলেন, ‘অনলাইনে খারাপ জিনিস আছে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াই নিষিদ্ধ করে দেয়া তার সঠিক সমাধান।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে জরিমানা এড়ানোর জন্য সম্পদ ও অর্থ ব্যবহার না করে বরং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর উচিত এই সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা।’
মামলাটিতে ম্যাসি নেল্যান্ড স্বীকার করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে তারও কিছু সমস্যা মনে হয়, তবে এগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা, যোগাযোগ এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো অনেক ভালো দিকও আসে। ম্যাসি মনে করেন, একযোগে নিষিদ্ধ করার বদলে প্রয়োজন অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে আরও ভালো শিক্ষা, শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা, যেমন বয়স যাচাইকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের উপযুক্ত দিকনির্দেশনা।
মামলাকারী কিশোর-কিশোরীদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা তাদের পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্ক এবং বিশেষ করে রাজনীতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। ম্যাসি বলেন, ‘গণতন্ত্র ১৬ বছর বয়স থেকে শুরু হয় না, অন্তত এই আইনে সেটাই বলা হচ্ছে।’ মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, ‘আমরা কোনো হুমকিতে ভয় পাব না।
আইনি চ্যালেঞ্জ বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—কেউই আমাদের দমাতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার অভিভাবকদের স্বার্থে আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় থাকব।’ তবে জরিপে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ অভিভাবক সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছেন।
অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এতে শিশুরা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে কিশোর-কিশোরীরা ইন্টারনেটের আরও অনিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণহীন অংশের দিকে ঝুঁকতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
