পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) মেজর জেনারেল হোর্তা ইনতা-আ কে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে। বুধবার সেনারা দেশটিতে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার আগেই হঠাৎ বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালো একটি বিশেষ উড়োজাহাজে সেনেগালে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেনেগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপে দেশ ছাড়তে সমর্থ হন তিনি।
গত পাঁচ বছরে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলে এটি নবম অভ্যুত্থানের ঘটনা। গিনি-বিসাউয়ের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তা ছাড়া কোকেন পাচারের একটি কেন্দ্র হিসেবে দেশটির কুখ্যাতি রয়েছে।
বুধবার গিনি-বিসাউয়ের একদল সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে ঘোষণা দেন, তারা প্রেসিডেন্ট এমবালোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। তাঁরা নিজেদের ‘হাই মিলিটারি কমান্ড ফর দ্য রিস্টোরেশন অব অর্ডার’ নামে পরিচয় দেন। তাদের দাবি, কিছুসংখ্যক রাজনীতিবিদ ও মাদক চক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিল। তা ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তারা এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেননি।
গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল হোর্তা ইনতা-আ সামরিক পোশাক পরে প্রথমবারের মতো দেশের নেতা হিসেবে প্রকাশ্যে হাজির হন। তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানীরা গিনি-বিসাউয়ের গণতন্ত্র দখল করতে চাইছিল। তাই অভ্যুত্থান জরুরি হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা এক বছর চলবে।
পরে একই দিন এক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ইনতা মেজর-জেনারেল টমাস জ্যাসিকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগের দিন গিনি-বিসাউয়ে ক্ষমতা দখলের এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনে এমবালোর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী ফার্নান্দো দিয়াস। দিয়াস রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন মুখ।
অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে বলে জানানোর আগে গত বুধবার রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে প্রায় এক ঘণ্টা গুলির শব্দ শোনা যায়। এমবালো ফরাসি গণমাধ্যমকে ফোন করে বলেন যে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
অভ্যুত্থানের ঘোষণার আগে বুধবার রাজধানী বিসাউয়ে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে প্রায় এক ঘণ্টা গুলির শব্দ শোনা যায়। এমবালো ফরাসি গণমাধ্যমকে ফোন করে বলেন যে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
গতকাল সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এমবালো ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সামরিক বাহিনীর উচ্চতর কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে আছেন।
আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ইউসুফ এক বিবৃতিতে এ সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট এমবালোসহ সব আটক কর্মকর্তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইসিওডব্লিএএসের রাষ্ট্রপ্রধানেরাও অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চু৵য়াল বৈঠক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্ট থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের আলী ইউসুফ বৈঠকে অংশ নেন।
