ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনো বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। তবে বৈঠক হবে এটি হবে ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বদানকারী মাদুরো এবং কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রথম বৈঠক।
এদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন আসার একদিন পর শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যালে ভেনেজুয়েলার দিকে ইঙ্গিত করে একটি বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, 'সকল বিমান সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি- ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং আশেপাশের আকাশসীমা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, অনুগ্রহ করে এটি বিবেচনা করুন।'
আল জাজিরা বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীসহ বৃহৎ সামরিক সমাবেশ করে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তখন এই বিবৃতিটি এলো।
যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার হচ্ছে এবং এর পেছনে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্ত। ইতোমধ্যে এই অজুহাতে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তথাকথিত মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৮৩ জনকে হত্যা করেছে।
জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার পেছনে কোনো ধরণের প্রমাণ উপস্থাপন করেনি যে, নৌকাগুলোতে আসলেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।
লাতিন আমেরিকার নেতারা, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা, সেই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্যও এসব হামলাকে 'বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন, নিহতদের বেশিরভাগই জেলে ছিলেন।
এখন আশঙ্কা বাড়ছে, ট্রাম্প এই অঞ্চলে সামরিক মোতায়েনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করার লক্ষ্যে আক্রমণ শুরু করবেন।
