হাতীবান্ধায় সারের জন্য কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৪৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চাহিদামতো সার না পাওয়ায় লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার অডিটোরিয়াম চত্বর এলাকায় ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’-এর সামনে সার সংকটের প্রতিবাদে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে কৃষকেরা ওই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সার পাচ্ছিলেন না। কেন্দ্রটি আগে জানায় যে আজ সকালে সার দেওয়া হবে। এ খবর পেয়ে সিংগিমারী ইউনিয়নের বহু কৃষক সকালেই সেখানে সার নিতে যান। কিন্তু কয়েকজনকে সামান্য সার দেওয়ার পর বিক্রয়কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় ডিলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা সকালে সার নিতে গিয়ে জানতে পারেন চাহিদামতো সার দেওয়া হবে না। বরং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সাথে ডিলার মিলে দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি করতে থাকায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে অবরোধে নামেন।

স্থানীয় কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, তার দুই বিঘা জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে সার না পেয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আজ সার দেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের মতো অনেক কৃষককে সার দেওয়া হয়নি। পরে দেখি তারা চুপিসারে দোকানদারদের কাছে সার দিচ্ছে।

কৃষক কসমত আলী বলেন, খেতে এখনই সার দিতে হবে, নইলে ভুট্টা লাগাতে পারব না। বেশির ভাগ কৃষকই সার পাচ্ছেন না।

মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা বলেন, কতবস্তা গেছে আর কতটুকু মজুদ রয়েছে হিসাব করব। যদি অনিয়ম থাকে তাহলে ডিলার পয়েন্ট বাতিল করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি