সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা
একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৬৮ পাবনা-১ সাঁথিয়া-বেড়া (আংশিক) আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নে টিকে আছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সংবিধান প্রণেতা ড. অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ গণফোরাম, জামায়াতের সাবেক মন্ত্রী ও জামায়েতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন স্বতন্ত্র, বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. বাছেদ স্বতন্ত্র। তিন প্রার্থী নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দুইবারের নির্বাচিত এমপি সাবেক স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী অ্যাডঃ শামসুল হক টুকু। দলীয় একক প্রার্থী হওয়ায় তিনি রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে।
এ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় ভোটের মাঠে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জামায়াতের আমীর ও যুদ্ধাপরাধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও মোমেন দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছিল। সর্বশেষ তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে আসছেন বলে সংবাদ পাওয়া গেলেও নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মাঝে তাকে এখনও দেখা যায়নি। অপর জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা: আব্দুল বাছেদ মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ভোটের মাঠে তার কোনো প্রকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে তিনি তার ফেসবুক পেজে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানের পক্ষে সমর্থন দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ডাঃ বাছেদ মনোনয়ন জমা দিলে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের নেতা কর্মীরা দলীয় অফিসে তালা দিয়ে প্রতিবাদ করে। এ আসনটিতে তারা ব্যারিস্টার মোমেনকে চায়।
ঐক্যফ্রন্টের হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সংবিধান প্রণেতা ড. অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ গণফোরামের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন উপলক্ষে তিনি নির্বাচনী এলাকায় আসলেও নির্বাচনের মাঠে এখনও দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকায় পাবনার বিএনপির নেতারা গিয়ে অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদকে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি দেখা গেলেও তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও জামায়েতের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে এদের মধ্যে কে হবেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, তা নিয়ে এখনো দ্বিধা কাটেনি ভোটারদেন। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুখছেন বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা। জামায়াতের নেতাকর্মীরা চায় নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানকে। বিএনপি দীর্ঘ দিন নেতৃত্ব শূন্য থাকায় আবু সাইয়িদকে নিজেদের দলীয় প্রার্থী ভেবে কাজ করতে চায় দলটি।
বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র সালাহ উদ্দিনকে দেওয়ায় ত্যাগী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তার মনোনয়নটি অবৈধ হয় বাছাই প্রক্রিয়ায়।
সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কে, এম, মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে মুক্ত করতে ড. কামাল ঐক্য করেছেন। তার দলের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলে আমরা তার কাজ করব।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, জন্মলগ্ন থেকে বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি ছিলাম, জেল-জুলুম খেটেছি। বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিনকে দেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাঁথিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মওলানা মোখলেছুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কিছু করব না। কেন্দ্র থেকে যে আদেশ আসে আমরা তাই করব।
