২৪ অ‍্যাকচুয়ালি ৭১-কে কমপ্লিমেন্ট করে: ফারুকী

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:২৭

মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চলছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশ স্বাধীন হতে না হতেই আবারও একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের কবলে পড়তে শুরু করে এ দেশের মানুষ।

ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টালে দেখা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশে দুটি যুগান্তকারী গণআন্দোলন গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। তার মধ্যে একটি নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, অন্যটি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। সবশেষ ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

তবে কেউ কেউ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে গুলিয়ে ফেলেন! শুধু একাত্তর কিংবা জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে যেকোনো একটি চৈতন্যকে সামনে তুলে ধরেন। এবার এই বিষয়ে কথা বলেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

তার ভাষ্য, ‘আপনি যদি মানবিক মানুষ হন, আপনার মন ৭১-এর রুমীর (শহীদ শাফী ইমাম রুমী) জন্যও কাঁদবে, ২৪-এর আনাসের (শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস) জন‍্যও কাঁদবে।’

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা। যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা আরেকটার সাথে সাংঘর্ষিক না, মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ না। বরং ২৪ প্রকৃতপক্ষে ৭১-কে পূর্ণতা দেয়। ৭১ আমাদের একটা স্বাধীন দেশ দিয়েছে। আর ২৪ সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করেছে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যে সার্বভৌমত্ব চূড়ান্তভাবে সমঝোতা অবস্থায় ছিল ২০১৩ থেকে ২০২৪-এর পাঁচ আগস্ট পর্যন্ত।’

অর্থাৎ ফারুকীর ভাষ্য, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই মূলত বাংলাদেশের মানুষকে বারবার গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে, ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান যেমন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যুগিয়েছে। 

এদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে পরিবেশিত হবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একাত্তরের কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করবেন বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীরা।

 
ইত্তেফাক/পিএস