কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে গুলিতে নিহতের ৮দিন পর শান্ত (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে সীমান্ত পিলার ১৫৪/৩-এস এর কাছাকাছি মোহাম্মদপুর সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে বিএসএফের গুলিতে শান্তর নিহত হয়।
নিহত শান্ত দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মোহাম্মদপুর ডাঙেরপাড়া গ্রামের শিপন আলীর ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্ত ওই এলাকার চিহিৃত মাদক কারবারি। ঘটনার রাতে ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করে মাদক ও অস্ত্র পাচার করছিল। বিএসএফ কমান্ডেন্ট অধীনস্ত কাচারীপাড়া ক্যাম্পের টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় বিএসএফ’র গুলিতে শান্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সহযোগীরা পালিয়ে চলে আসে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শান্তকে উদ্ধার করে নিজ ক্যাম্পে নেয় বিএসএফ।
পরে শান্তকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’দিন পর তার মৃত্যু হয়। বিএসএফ’র গুলিতে শান্ত নিহত হওয়ার ঘটনা তার পরিবার বিজিবিকে জানালে বিএসএফকে চিঠি দেয় বিজিবি।
বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার বিষয়ে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঘটনার রাতে সীমান্তে শান্তসহ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি চালায়। সে সময় শান্ত গুলিবিদ্ধ হলে আহত অবস্থায় বিএসএফ তাকে হেফাজতে নেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৮ ডিসেম্বর বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির পতাকা বৈঠক হয়।
শান্তর মরদেহ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুল রহমান।
