গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু

তানোরের সেই সেমিডিপের মালিক এখনো আত্মগোপনে, মামলা করবে না শিশুটির পরিবার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:১৯

রাজশাহীর তানোরের কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় যার সেমিডিপের বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, সেই প্রভাবশালী কছির উদ্দিন এখনো আত্মগোপনে। বোরহলের পাশেই সমান্তরাল প্রায় ৫০ ফুট গভীর গর্ত করে শিশু সাজিদের অচেতন দেহ উদ্ধারের আগে ও পরে শিশুটির মা রুনা খাতুন অভিযুক্তের বিচার দাবি করলেও এখন মামলা করবেন না শিশুটির বাবা রাকিবুল ইসলাম।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়েছেন। আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলা করব না। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন শিশু সাজিদের বাবা রাকিবুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

মামলা না করার চাপ আছে কি-না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার ওপর কোনো চাপ নেই। গোটা দেশ আমাদের পক্ষে আছে। ইনশাআল্লাহ পুলিশ প্রশাসনও আমাদের পাশে আছে।’ কছির উদ্দিন সহানুভূতি জানিয়েছেন কি-না? জানতে চাইলে রাকিবুল বলেন, ‘না, উনি এখনও এলাকায় আসেননি। আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।’

উল্লেখ্য, ১০ ডিসেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশের কছির উদ্দিনের সেমিডিপের ৮ ইঞ্চি ব্যাসের বোরহোলে পড়ে শিশু সাজিদ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় ৩২ ঘণ্টার অভিযানে ১১ ডিসেম্বর রাতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ঘটনার শুরু থেকেই শিশুটির মা রুনা খাতুন অভিযুক্তের বিচার দাবি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘কছির আমার বাড়ির পাশে এভাবে তিন জায়গায় গর্ত করে ফেলে রাখেন। কেন এভাবে ফেলে রাখল, গর্তগুলো কেনো বন্ধ করল না? আমি বিচার চাই।’ 

ছবি: ইত্তেফাক

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কছির উদ্দিন প্রভাবশালী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। তার ভাই আব্দুল করিম পাচন্দর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে দলীয় টিম সদস্য। তবে পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও বিদ্রোহী নেতাদের সাথেও তার ‘গভীর সখ্য’। সাবেক প্রবাসী কছির দেশে ফিরে পানির ব্যবসা শুরু করেন। তানোরে তার ৫টি সেমিডিপ রয়েছে, যা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতবছর উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই আরেকটি সেমিডিপের জন্য পর পর তিনটি বোরিং করেন কছির উদ্দিন। মাটির প্রায় ৯০ ফুট গভীরে পানির পরিবর্তে পাথর ওঠায় দুইটি পরিত্যক্ত (বোরহোল) হয়ে যায়। সেই বোরহোলের একটিতে পড়ে শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, কছির উদ্দিনের অবহেলায়ই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শিশুটির পরিবার যেভাবে চাইবে, আমরা সেভাবে পদক্ষেপ নিবো। উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি হিসেবে তার (কছির) সব সেচপাম্প বৈধ কি-না? যাচাই করবো। যে বোরহোলে শিশুটির মৃত্যু, সেটি অনুমোদিত নয়। তবে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। 

ইত্তেফাক/এসএএস