ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার শিকার ২১ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০০

প্রতারণার শিকার হয়ে ২১টি পরিবার সর্বস্বান্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছে। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ধর্মীয় কথা শুনে নিরাপদ ভেবে তাদের হাতে সারা জীবনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে দিয়েছিল তারা। তারা প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ২১টি পরিবার।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কাজী শামসুল কবির, আবুল বাশারসহ অন্যান্যরা।

লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ কাজী শামসুল কবির বলেন, আমরা ৩০ জন একটু মাথা গোজার ঠাঁইয়ের জন্য অনেক কষ্ট করে বসিলা গ্রীন সিটি-২ এলাকায় সাত কাঠা জমি কিনে সেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সবাই মিলে 'বায়তুল আসকান' নামে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করি এবং বিশ্বাসের জায়গা থেকে দুইটি মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলামকে কমিটির সভাপতি ও আব্দুল কাদিরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে তাদের হাতেই জমির দলিলসহ সব কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আমারা বুঝতে পরিনি সেই বিশ্বাসই এক দিন আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনবে। ২০১৭ সালে ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ২০২১ সালে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই আমাদের দুঃস্বপ্ন শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, নির্মাণ করা ১০ তলা ভবনের ৩৬টি ফ্ল্যাটের মধ্যে আমাদের পাওয়ার কথা ছিল ২১টি। কিন্তু সেসবের সঠিক বণ্টন তো দূরের কথা সকলের অজান্তে ১৫টি ফ্ল্যাট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির। এক বছর ধরে অপেক্ষা করছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমরা যার যার ফ্ল্যাটে ওঠা শুরু করি। আমরা বলেছিলাম আমাদের কাগজপত্র ও হিসেব বুঝিয়ে দিতে। এছাড়াও নতুন কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে আমাদের কয়েক জনকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি জিডি করি (জিডি নং-১০৪৩, তারিখ: ১৩/১২/২০২৫ ইং)। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

ইত্তেফাক/এমএএম