মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যাওয়া ও প্রবেশ করা সমস্ত তেল ট্যাংকার 'অবরোধ' করার নির্দেশ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'জলদস্যুতা'র অভিযোগ করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানী কারাকাস থেকে এক বক্তৃতায় মাদুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ভেনেজুয়েলার মালিকানাধীন তেল ট্যাঙ্কার আটকের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'আরেকটি লিবিয়া, আফগানিস্তান বা ইরাক তৈরি করা। আমরা নতুন ভিয়েতনাম চাই না। ভেনিজুয়েলা ২৫ সপ্তাহ ধরে এই বহুমাত্রিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ, লড়াই এবং পরাজিত করে আসছে।'
তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন অভিযানে 'মানসিক সন্ত্রাসবাদ' থেকে শুরু করে 'জলদস্যুতা' পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাদুরো বলেন, ক্যারিবিয়ান এবং ভেনেজুয়েলায় মুক্ত বাণিজ্য ও শান্তির প্রতিরক্ষা সমগ্র বিশ্বের জন্য প্রতিরক্ষা। আমরা লাখ লাখ লোক হবো, যারা সাম্রাজ্যবাদীদের বলবে, জলদস্যুতা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে, একইদিন ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, 'আমাদের সম্পদ চুরি ও সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারসহ আরও অনেক কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারকে একটি 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অতএব, আজ আমি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া সমস্ত অনুমোদিত তেল ট্যাঙ্কার সম্পূর্ণরূপে অবরোধের নির্দেশ দিচ্ছি।'
রয়টার্স বলছে, ঘোষণা এখন দিলেও মূলত গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেল ট্যাংকার আটক করার পর থেকেই অবরোধ কার্যত জারি রয়েছে। কেননা লাখ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই জাহাজগুলো আটকের ভয়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় অবস্থান করছে।
গত সপ্তাহের ওই আটকের পর থেকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। আজ বুধবার এশিয়ান বাণিজ্যে তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

