চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ যে সাত মামলায় জামিন পেয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছে চেম্বার জজের আদালত।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী যেসব মামলায় জামিন পেয়েছিলেন, সেগুলো স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ (বুধবার) এ আদেশ দিয়েছেন।’
এর আগে মোট সাতটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান সাজ্জাদ; আর চারটি মামলায় জামিন পান তার স্ত্রী তামান্না।
গত সপ্তাহে প্রথম দফায় চারটি মামলার জামিননামা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালত সূত্র জানায়, জামিন হওয়া সাতটি খুনের মামলার মধ্যে চারটি নগরের চান্দগাঁও থানায় ও তিনটি পাঁচলাইশ থানায় হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে খুনের অভিযোগ ও বিস্ফোরক আইনে এসব মামলা করা হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, সাজ্জাদ ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯ মামলার আসামি। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যাসহ আটটি মামলা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে সাতটি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তারা দুজন জামিন পান। তবে ওই আদেশ চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছায়। সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন তামান্না বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ সাজ্জাদকে জামিনে মুক্ত করার কথা উল্লেখ করে তামান্নার একটি বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা থেমে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন, বোরহান উদ্দিন ও নাজিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে একটি গলিতে গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরোয়ারকে গুলি করা হয়। তবে ভিড়ের মধ্যে গুলি চালানো ব্যক্তিকে (শুটার) এখনো শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

