খুলনা-৫ ও ৬ আসন

জামায়াতকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি প্রার্থীরা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে দুটিতে (খুলনা-৫ ও ৬) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি প্রার্থীরা। তবে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খুলনা-৫ ও ৬ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে নীতিনির্ধারক কমিটি। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।

২০০১ সালের নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর তত্কালীন সভাপতি মিয়া গোলাম পরওয়ার। ২০০৮ সালে নারায়ণচন্দ্র চন্দের কাছে পরাজিত হন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের একক প্রার্থী বর্তমান মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অপরদিকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। এরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. মামুন রহমান ও অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার।

২০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতিপূর্বে খুলনা-৫ ও ৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জোটগতভাবে এই আসন দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এবারো ২০ দলীয় জোট এ দুটি আসনে আমাদেরকে ছাড় দিয়েছে। জোটগত নির্বাচনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দাবিদার বিএনপির ড. মামুন রহমান বলেন, বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলের অবলম্বন নিয়ে একবারমাত্র এই আসনে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হলেও তারা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর। এরপর জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি করেছে। যে কারণে এবারের ভোটে তারা ধানের শীষ প্রতীক জামায়াতে ইসলামীর হাতে তুলে দিতে নারাজ। আমার বিশ্বাস ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।

খুলনা-৬ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহ মুহম্মদ রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। তার কাছে জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস পরাজিত হন। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট নূরুল হক। এবার আওয়ামী লীগের টিকিট পাননি নূরুল হক ও সোহরাব আলী সানা। পেয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান বাবু। আর মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধুও এ আসনটির দাবিদার। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। শফিকুল আলম মনার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি আপিল করেছেন।

অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি আপিল করেছেন। তার বিশ্বাস প্রার্থিতা ফিরে পাবেন তিনি। তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে বিজয় সুনিশ্চিত।