আলোচনা ব্যর্থ হলে ‘ঐতিহাসিক ভূমির মুক্তি অর্জন’ করবে রাশিয়া: পুতিন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:২৩

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করেছেন, ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা মিত্ররা যদি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ করে দেয়, তাহলে মস্কো ইউক্রেনে 'লক্ষ্য প্রসারিত' করবে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, মস্কো কূটনৈতিক উপায়ে 'সংঘাতের মূল কারণগুলো দূর করতে' চায়। তবে 'যদি বিরোধী পক্ষ এবং তার বিদেশি পৃষ্ঠপোষকরা বাস্তব সংলাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাশিয়া সামরিক উপায়ে তার ঐতিহাসিক ভূমির মুক্তি অর্জন করবে।'

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রায় চার বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিস্তৃত শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা বলছে, শান্তি চুক্তির বেশকিছু ধারা রাশিয়ার অনুকূলে এবং তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে চায়।

রাশিয়ার দখলে নেওয়া ইউক্রেনীয় কিছু ভূখণ্ডের কথাও এই প্রস্তাবে উল্লেখ আছে - এই পদক্ষেপকে পশ্চিমারা ইউক্রেনের 'সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বিনা উস্কানিতে আগ্রাসনের একটি কাজ' হিসেবে দেখছে।

এদিকে পুতিন আরও বলেছেন, রাশিয়ান সেনাবাহিনী সম্মুখ সারিতে কৌশলগত জায়গাগুলো দখল করেছে এবং দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে। তিনি সতর্ক করেন, মস্কো রাশিয়ান সীমান্ত বরাবর একটি 'বাফার নিরাপত্তা অঞ্চল' সম্প্রসারণের জন্য পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, 'আমাদের সৈন্যরা এখন আলাদা, তারা যুদ্ধে দক্ষ এবং এখন পৃথিবীতে (এরকম) আর কোনো সেনাবাহিনী নেই।'

পুতিন রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির প্রশংসা করেন, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রাগারের আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নতুন ধরণের পারমাণবিক 'ওরেশনিক' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও জানান যে, এটি চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে 'যুদ্ধের দায়িত্বে' প্রবেশ করবে।

রাশিয়া প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি ইউক্রেনীয় কারখানায় 'ওরেশনিক' দিয়ে হামলা করেছিল, তবে পারমাণবিক ওয়ারহেড দিয়ে নয়। এরপর অস্ত্রটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসে।

এই হামলার আগে রুশ নেতা পুতিন পশ্চিমাদের 'ওপেন চ্যালেন্ড' জানান যে, তাদের সবচেয়ে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিয়েভে জড়ো করা হোক এবং এরপর এই 'ওরেশনিক' দিয়ে হামলা করা হবে। তার মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

ইত্তেফাক/এসকে