ভারতীয় পার্লামেন্টারি কমিটির প্রতিবেদন

১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশে 'সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জে' ভারত

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:০৯

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ভারতের জন্য 'সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ' হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটি। তারা বলছে, পরিস্থিতি 'বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার দিকে ঝুঁকে পড়বে না', তবে ভারতকে এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, কংগ্রেস এমপি শশি থারুরের নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টারি কমিটি ‘বাংলাদেশ-ভারতের ভবিষ্যত সম্পর্ক’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে।

এই কমিটি দুই দেশের সম্পর্কের মাঝে অস্থিরতার কারণ হিসেবে বাংলাদেশে 'ইসলামী মৌলবাদীদের উত্থান, চীনা ও পাকিস্তানি প্রভাব বৃদ্ধি এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের আধিপত্যের পতন'-এর কথা উল্লেখ করেছে।

কমিটি বলেছে, 'যদিও ১৯৭১ সালের চ্যালেঞ্জ ছিলো অস্তিত্বগত, মানবিক এবং একটি নতুন জাতির জন্মের; পরবর্তী (বর্তমান) চ্যালেঞ্জটি আরও গুরুতর- প্রজন্মগত বিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পরিবর্তন এবং ভারত থেকে দূরে একটি সম্ভাব্য কৌশলগত পুনর্বিন্যাস।'

প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, ভারত যদি এই মুহূর্তে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ঢাকায় কৌশলগত গুরুত্ব হারাতে পারে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ বাংলাদেশে ভারত ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে যাওয়ার কারণে গুরুত্ব হারাতে পারে।

ভারতীয় পার্লামেন্টারি কমিটির পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে - বিশেষ করে অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত সহযোগিতার ক্ষেত্রে। এই প্রসঙ্গে তারা মোংলা বন্দর, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি এবং পেকুয়ার সাবমেরিন ঘাঁটির সম্প্রসারণের মতো প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, চীন বাংলাদেশের সকল অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে- যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে। এমনকি এই ইসলামী দলটি চীনও সফর করেছে।

কমিটি সুপারিশ করেছে, বাংলাদেশকে কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক ঘাঁটি স্থাপন থেকে বিরত রাখার জন্য ভারত সরকারকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে এবং উন্নয়ন, সংযোগ ও বন্দর অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে ঢাকাকে তুলনামূলক সুবিধা প্রদান করতে হবে।

তথাকথিত 'ইসলামপন্থী' উত্থান সম্পর্কে প্যানেলটি উল্লেখ করেছে, জামায়াতে ইসলামির নির্বাচনী নিবন্ধন পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, যা দলটিকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম করবে।

ইত্তেফাক/এসকে