ইসলামের দৃষ্টিতে গণপিটুনি

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫১

হজরত ওমর (রা)-এর যুগে একজন ক্রীতদাসকে সাত ব্যক্তি মিলে হত্যা করেছিল। যার কিসাস স্বরূপ তিনি এদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। অতঃপর এ ব্যাপারে তার অভিব্যক্তি ছিল—যদি গোটা সানাআ এলাকা অপরাধী হতো আমি সবার প্রাণ সংহারের আদেশ দিতাম

 এস এম আরিফুল কাদের

 

সার্বজনীন ধর্ম ইসলাম। যেখানে আশ্রয় নিলে জাতি, ধর্ম-বর্ণ—নির্বিশেষে সবাইকে দেয় নিরাপত্তা। সেই ইসলামে রয়েছে অপরাধীর শাস্তির কথা। আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়ার কথা; কিন্তু অপরাধের শাস্তির নাম করে যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির প্রাণনাশের ঘটনা কোনো মুসলমানের দ্বারা হয় তাহলে তার বিধানও ইসলামে রয়েছে। সেদিকে খেয়াল না করে দেশে চুরি-ডাকাতির অভিযোগে অথবা রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় ধরা পড়লে আসামিকে দেশের আইনানুসারে প্রশাসনের হাতে তুলে না দিয়ে জনগণ একধারায় গণপিটুনি দিয়ে থাকে। অনেক সময় শুধু সন্দেহের বশে নিরপরাধ ব্যক্তিকেও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বাড়ছে আমাদের দেশে। এক্ষেত্রে জনগণ মনে করেন—যদি প্রশাসনের হাতে তুলে দিই তবে অল্প সময়েই সে জামিনে জেল থেকে বের হয়ে আসবে। অভিযুক্তদের সাজা যে কোনো কারণে হোক বা না হোক একজন মুসলমান আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। তাছাড়া গণপিটুনিতে অংশগ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। কেননা, হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। বিশ্বনবি (স) ইরশাদ করেন, যদি আসমান ও জমিনের সব অধিবাসী একত্রিত হয়ে (গণপিটুনি দিয়ে) একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা সবাইকেই একসঙ্গে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’ (সুনানে তিরমিজি)।

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত ফিকহি গ্রন্থ বিদায়াতুল মুজতাহিদে উল্লেখ আছে ইমাম চতুষ্টয় ও জমহুর ওলামার অভিমত হলো—এক ব্যক্তিকে একাধিক ব্যক্তি মিলে হত্যা করলে (গণপিটুনি দিলে) কিসাস স্বরূপ ঐ এক দল মানুষকে হত্যা করা যায়। কেননা হজরত ওমর (রা)-এর যুগে একজন ক্রীতদাসকে সাত ব্যক্তি মিলে হত্যা করেছিল। যার কিসাস স্বরূপ তিনি এদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। অতঃপর এ ব্যাপারে তার অভিব্যক্তি ছিল—যদি গোটা সানাআ এলাকা অপরাধী হতো আমি সবার প্রাণ সংহারের আদেশ দিতাম। কোনো সাহাবী তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি। ফলে তা জমা হিসেবে পরিগণিত হয়। (ইবনে কাসীর, মুখতাসারু তাফসিরে ইবনে কাসীর, মুয়াত্তা মালেক, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।

আর নিহত ব্যক্তিটি যদি মুসলমান-ঈমানদার হয় তাহলে গণপিটুনিকারীদের জন্য রয়েছে পরকালীন শাস্তি, আল্লাহর অভিশাপ। কোরআনের ভাষায়, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো ঈমানদারকে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সে চিরকাল সেখানেই থাকবে আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন (সূরা নিসা : ৯৩)

lলেখক : আলেম ও গবেষক