কেমন পশু কোরবানি দেব

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫১

কোনো ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি  করতে হবে সে বিষয়ে ইসলামে রয়েছে সুন্দর নির্দেশনা। তাই কোরবানি করার জন্য নির্দিষ্ট পশু ক্রয় করতে হবে। আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট পশু নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুরা আনআমের ১৪৩ ও ১৪৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে—কোরবানির পশু হবে মোট আট ধরনের—ভেড়া বা দুম্বা, ছাগল, গরু ও উট চার প্রজাতি পশুর প্রত্যেকের নর ও মাদী হিসেবে আট প্রকার। এই নির্দিষ্ট পশু দ্বারা কোরবানি করতে হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি— যে সব চতুষ্পদ জন্তু তিনি দিয়েছেন সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’(সুরা হজ-৩৪)

কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট পশু যেমন ক্রয় করতে হবে, তেমনিভাবে পশুর বয়সের সময়সীমা দেখেও পশু ক্রয় করতে হবে। কোরবানি করার জন্য উটের পাঁচ বছর, গরু বা মহিষ দুই বছর, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পশুর বয়সের ব্যাপারে রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু কোরবানি করবে, তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ শাবক কোরবানি  করতে পার।’ (মুসলিম-১৯৬৩)

কোরবানি হলো আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তাআলা সুরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে বলেন, কোরবানির পশুর কোনো অংশ আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, তার নিকট পৌঁছায় শুধু কোরবানিদাতার তাকওয়া। সে কী লোক দেখানোর জন্য বা কী গোশত খাওয়ার জন্য কোরবানি দিচ্ছে, না কি আমাকে খুশি করার জন্য—এটা দেখাই মূল উদ্দেশ্য। যেহেতু আমরা কোরবানি করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য—তাই যে পশুটি ক্রয় করে কোরবানি করব সেই পশুটি হওয়া চাই সুন্দর ও নিজ পছন্দের। যাবতীয় দোষত্রুটি থেকে মুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করতে হবে। সাহাবি আল বারা ইবনে আযেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স) আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু  দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। ১. অন্ধ যে পশু দৃষ্টিশক্তিহীন, ২. যার রোগ স্পষ্ট ৩. পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং ৪. আহত যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে। আর নাসায়ী শরীফের বর্ণনায় আহতের স্থানে পাগল বলে উল্লেখ রয়েছে।’ (তিরমিজি-১৫৪৬, নাসায়ী-৪৩৭১)

পশু ক্রয় করতে হবে ত্রুটিমুক্ত। যে পশুর দুই চোখ বা এক-তৃতীয়াংশের বেশি অন্ধ, চার পায়ে চলতে পারে না, লেজ বা কানের এক-তৃতীয়াংশ কর্তিত রয়েছে, শিং ওঠেনি কিংবা সামান্য ভেঙে গেছে—এমনটি হলে কোরবানি হবে; কিন্তু মূল থেকে ভাঙলে হবে না। পশুর শরীরের চামড়ার এমন কোনো রোগ হয়েছে যার কারণে গোশতের ক্ষতি হয়েছে এই সমস্ত  ত্রুটি থাকলে সে পশু ক্রয় করা ঠিক হবে না। এজন্য পশু ক্রয় করার সময় দেখতে হবে পশু চঞ্চল কি না, তার লেজ নড়াচড়া করে কি না, শরীর ও চোখ সুন্দর কি না, খাবার দিলে সহজেই খেয়ে ফেলা ও তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক অবস্থায় আছে কি না, দাঁড়ানো অবস্থায় কোনো ছটফট করছে কি না—এই সমস্ত লক্ষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। তাছাড়া পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে খেয়াল করে পশু কিনতে হবে। রাসুল (স) বলেন, ‘আমরা যেন কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে খেয়াল করি আর ঐ পশু দ্বারা কোরবানি না করি যার কানের অগ্রভাগ ও পশ্চাত্ভাগ কাটা রয়েছে’। (আবু দাউদ-২/২৩৮)

ইমাম মালিক (রহ)-এর মতে, সবচেয়ে উত্তম পশু হলো শিংওয়ালা সাদা ও কালো দুম্বা। কেননা বুখারী ও মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে, রাসুল (স) এ ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করেছেন। সুতরাং আমাদের শুধু আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের ও মুসলমানদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করার জন্য কোরবানির পশু জবেহ করতে হবে। এজন্য রাসুল (স) বলেন, যে ঈদের সালাতের পর কোরবানির পশু জবেহ করল তার কোরবানি পরিপূর্ণ হলো ও  সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল।’ (বোখারী-৫৫৪৫)

lলেখক :সহযোগী অধ্যাপক, কবি নজরুল

সরকারি কলেজ, ঢাকা