শ্রীলঙ্কার কাছে ধবলধোলাইয়ের পর বুধবার রাতটা কলম্বোতেই কেটেছে তামিম ইকবালদের। ফ্লাইট বিলম্বের কারণে গতকাল খুব সকালে দেশের উদ্দেশ্যে বিমানে চড়তে পারেননি ক্রিকেটাররা। ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর গতকাল দুপুরে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি কেউ।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিমসহ সব খেলোয়াড় গাড়ির কাচ তুলে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। কোচের দায়িত্বে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজনও বেমালুম এড়িয়ে গেছেন সাংবাদিকদের। গাড়ির হর্ন বাজাতে বাজাতে বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন তিনি। তামিম-সুজনরা যখন বিধ্বস্ত সফর থেকে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন, তার ঘণ্টা খানেক আগেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। রাজধানীর একটি স্কুলে ডেঙ্গুর সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আজই হজব্রত পালনে দেশ ছাড়বেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক বলেই উল্লেখ করেছেন সাকিব। টেস্ট ও টি-২০ দলের অধিনায়ক গতকাল বলেছেন, বিসিবির উচিত এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নজর দেয়া। খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপরও গুরুত্ব দিতে বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। শ্রীলঙ্কা সফরে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সাকিব এই সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছেন। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। লিটন দাস, সাইফউদ্দিনের মতো তরুণরাও খেলতে পারেননি এই সিরিজ। তামিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলটা লঙ্কানদের সামনে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।
সিরিজের ফলাফলে হতাশ সাকিব নিজেই। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘হতাশাজনক অবশ্যই। এখানে আসলে লুকোচুরি করার কিছু নাই। বিশ্বকাপের সময় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের খেলাটা হয়নি। অনেকেই নিশ্চিত ছিল আমরা দুই পয়েন্ট পাব। এই সিরিজে কিন্তু প মাণ হয়েছে সেই জয়টা নিশ্চিত ছিল না। আমরা জিততেও পারতাম, হারতেও পারতাম। এই সিরিজটার কথা যদি বলি হতাশাজনক। সিরিজ হারলেও একটা ম্যাচ যদি জিতে আসতে পারতাম আমাদের আত্মবিশ্বাসের জন্য কাজে আসত সেটা হয়নি।’
দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা উচিত বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেছেন, ‘এখন সময় এসেছে ভালোভাবে চিন্তা করে, পরিকল্পনা করে, পরের তিন-চার বছরের জন্য পরিকল্পনার সময় এসেছে। আমি নিশ্চিত বিসিবিতে যারা আছেন এটা নিয়ে চিন্তা করছেন। ইতিমধ্যেই আমাদের দুজন কোচও নিয়োগ দিয়েছেন। হয়ত পুরো কোচিং স্টাফ একসঙ্গে হলে বোর্ডকে একটা পরিকল্পনা দিতে পারবে। সেভাবে কাজ করতে পারলে আমার মনে হয় আমাদের ক্রিকেট গত চার বছরে যতদূর এগিয়েছে, এখান থেকেই আবার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ তবে সিরিজ হারের কারণ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি নন সাকিব। দলের অভ্যন্তরেই আলাপ করে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে চান তিনি।
খোদ লঙ্কান ক্রিকেটাররাও বলেছেন, সাকিব না থাকায় বাংলাদেশ দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। যদিও সাকিব এমনটা মনে করেন না। তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেট এক বলের খেলা। তাই তিন বলে তিনদিন আউ্ট হয়ে গেলে হয়ত কিছু নাও করতে পারতাম, কোনো অবদান নাও রাখতে পারতাম (হাসি)।’
বিশ্বকাপ থেকেই প্রত্যাশা মেটাতে পারছে না তামিমের ব্যাট। লঙ্কা সফরে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা এই ওপেনার আবারও ফ্লপ। সাকিবের মতে, তামিমের দরকার বিশ্রাম। তিনি বলেছেন, ‘একজন প্লেয়ারের এরকম সময় যেতেই পারে। আমার কাছে এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় ওর জন্য খুব ভালো একটা বিশ্রাম করা, রিকভার করা, সতেজ হওয়া এবং শক্তভাবে ফিরে আসা। আমি নিশ্চিত ও এটা করবে।’
