এপস্টে‌ইনের তদন্তের নথি

প্রকাশিত ছবি হঠাৎ সরিয়ে ফেলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক 

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রয়াত যৌন অপরাধী ও আর্থিক লগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের তদন্তের নথিপত্র থেকে বেশ কিছু ফাইল হঠাৎ করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত হাজার হাজার নথিপত্রের মধ্যে গত শুক্রবার প্রকাশিত কমপক্ষে ১৩টি ছবি শনিবারের মধ্যে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা না দিয়েই ওয়েবসাইট থেকে সরানো ফেলা হয়।

ওইসব ছবির মধ্যে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবিও রয়েছে। যদিও সমালোচনার পরে সেটি আবারও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা না দিয়েই আকস্মিকভাবে ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাউস ওভারসাইট কমিটিতে থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে তারা অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির উদ্দেশে লিখেছেন, আবার কী ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে? যদিও ছবি সরিয়ে ফেলার সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী টড ব্লাঞ্চ।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই বেশ কিছু ফাইল সরিয়ে ফেলা হয়, যেগুলোর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবিটিও ছিল। 

তবে আরও পর্যালোচনার জন্য 'সাময়িকভাবে' ছবিটি সরানো হয় বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। 

পর্যালোচনার পর ছবিটিতে ভুক্তভোগীদের চিত্রিত করার কোনও প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন ছাড়াই সেটি পুনরায় ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে বলে দেশটির বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

রোববার ভোরে ট্রাম্পের ছবিটি ওয়েবসাইটের একটি লিঙ্কে দেখা গেছে। তবে সরিয়ে ফেলা অন্য ফাইলগুলো রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়েবসাইটে পুনরায় প্রকাশিত হয়নি।

ট্রাম্পের কারণেই ছবিটি সরানো হয়েছিল, এমন অভিযোগ "হাস্যকর" বলে অভিহিত করেছেন আইনজীবী টড ব্লাঞ্চ। এ ঘটনার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই, এনবিসি নিউজকে বলেছেন ব্লাঞ্চ।

আগে প্রকাশিত কয়েক ডজন ছবিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইতোমধ্যেই এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা গেছে। কাজেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে একটি ছবি, একটিমাত্র ছবি সরিয়ে ফেলার দাবি অযৌক্তিক, হাস্যকর, বলেন ট্রাম্পের আইনজীবী।

ব্লাঞ্চ উল্টো নিউইয়র্কের একজন বিচারকের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি কোনো ভুক্তভোগী বা অধিকার গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করলে তাদের কথা শোনার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নির্দেশের কারণেই গত শুক্রবার প্রকাশের পর বেশ কিছু ছবি সরিয়ে ফেলা হয়, বলেন ব্লাঞ্চ।

উল্লেখ্য যে, যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে ছবি দেখা গেলেও কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরাও এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধী ও আর্থিক লগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের তদন্তের সব ফাইল প্রকাশের বিষয়ে সম্মতি দেয় মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ।

৪২৭-১ ভোটে সেটি অনুমোদন করে প্রতিনিধি পরিষদ।

সেনেটের নেতা চাক শুমার বিলটি উত্থাপন করেন। এরপর সেনেট সর্বসম্মতিক্রমে আনুষ্ঠানিক ভোট ছাড়াই দ্রুত পাশ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করার পর মার্কিন বিচার বিভাগ এসব নথিপত্র প্রকাশ করে।

২০ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার তদন্তের নথির মধ্যে কিছু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এটি ঘিরে ট্রাম্প এবং এপস্টেইনের সাথে তার সম্পর্ক আবারও খবরের শিরোনামে উঠে আসে। যদিও কোনো অন্যায় কাজে ট্রাম্পের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। 

ইত্তেফাক/এসআর