কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই জেলার হাটগুলোতে পশু আসতে শুরু করেছে। জেলার কালিয়া কান্দাপাড়া, তালগাছী, রতনকান্দি, কামারখন্দ, এনায়েতপুর, সলঙ্গা, জনতার হাট, গ্যাসলাইন, শমেশপুরসহ বড়ো বড়ো হাটগুলোতে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার আসতে শুরু করেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গবাদিপশুর দাম ভালো বলে খামারি সূত্রে জানা গেছে। এতে খামারিরা বেশ খুশি।
বৃহস্পতিবার কালিয়া কান্দাপাড়া হাটে গরু কিনতে আসা আব্দুল আলিম জানান, ৭০ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছে। এবারে একটু গরুর দাম বেশি। তার দাবি বাইরের গরু না আসার কারণে গরুর দাম বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, সিরাজগঞ্জের গো-খামারিরা পশু পালনে সচেতন। খামারিরা পশু পালনে কোনো প্রকার ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন খামারিরা সচেতন হয়েছে এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই পশু মোটাতাজা করে লাভবান হচ্ছেন।
কুমিল্লায় খামারি ও চাহিদার তুলনায়
পশুর সংখ্যা হ্রাস
কুমিল্লা প্রতিনিধি : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নিরাপদ গো-মাংস উত্পাদনে কুমিল্লায় ৩২ হাজার খামারি তাদের ছোটো-বড়ো খামারে আড়াই লক্ষাধিক পশু মোটাতাজা করেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় খামারি এবং চাহিদার তুলনায় ৫৩ হাজার ৫শ পশু কম পালন হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, নিরাপদ গো-মাংস উত্পাদনে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করার বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন। এছাড়া পশু খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খুলনায় এবার ২৮ স্থানে বসছে পশুর হাট
খুলনা অফিস:ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে খুলনায় পশুর হাটে গরু আমদানি শুরু হয়েছে। জেলার চারটি স্থানে বৃহস্পতিবার থেকে পশুর হাট বসেছে। আগামী ৬ আগস্ট নগরীর জোড়াগেটে পশুর হাট উদ্বোধন হবে। খুলনা জেলায় এবার ২৮টি হাট বসবে। শুধু বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়ায় ছাগলের হাট বসবে আজ শুক্রবার থেকে।
খুলনার ২৮টি স্থানে পশুর হাট বসার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ওয়াত) আব্দুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার কয়রার দেউলিয়া, পাইকগাছার কাশিমনগর এবং ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ও শাহাপুরে পশুর হাট বসেছে। আগামী ৬ আগস্ট থেকে কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর জোড়াগেটে পশুর হাট বসবে। এছাড়া ঈদের আগের সাতদিন দীঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল বালুরমাঠ, পথেরবাজার, এম এ মজিদ কলেজ মাঠ এবং ঈদের আগের পাঁচ দিন পাইকগাছার বাঁকা ও জিরো পয়েন্টে পশুর হাট বসবে। এবার মহানগরীসহ ৯ উপজেলায় ৫১ হাজার ২৯৪টি গবাদি পশু কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
