বিশ্বযুদ্ধের বাংকার পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়

সংরক্ষণের দাবি 

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩২

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জীবন রক্ষায় তৈরি করা হয় বাংকার। বোমারু বিমান থেকে দ্রুত শ্রমিক-কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন তার জন্য এই বাংকারের ব্যবস্থা। এসব তৈরি করা হয় দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। কালের পরিক্রমায় সব বাংকার হারিয়ে গেলেও এখনো অক্ষত রয়েছে সাতটি বাংকার। আগামী প্রজন্মের জন্য এসব বাংকার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা জার্মানিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ছয় বছর ধরে চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, যা শেষ হয় ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর। এ সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি গুঁড়িয়ে দিতে হুমকি হয়ে দাঁড়ায় নাৎসি বাহিনী। তখন ঐ কারখানাটিতে ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। তাদের রক্ষা করতে ব্রিটিশরা কারখানার ভেতরে ইট, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করে বিশেষ ধরনের বাংকার। গোলাকৃতি ঐ বাংকারগুলোতে বোমা হামলা চালানো হলেও তা ছিটকে পড়বে অন্যখানে বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। বাংকারগুলোতে আশ্রয় নেওয়া শ্রমিকরাও রক্ষা পাবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় গেলে বিভিন্ন উপকারখানার পাশে সাতটি বাংকার অক্ষত দেখা যায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলোতে গজিয়েছে গাছপালা। বাংকারগুলো দেখতে অনেকটা কবরখানার মতো। বেশ উঁচু, আকার চন্দ্রবৃত্ত। বাংকারগুলোর দরজা লোহার পাত দিয়ে তৈরি। এতে ঝুলে আছে তালা। কয়েক জন শ্রমিক বলেন, এখনতো যুদ্ধ নেই। তাই বাংকারগুলো গুদাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

পর্যটক ও দর্শনার্থী এবং শিক্ষার্থীরা দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে এলে কারখানার বাষ্পীয় ইঞ্জিন, রেলের জাদুঘর, পুরোনো মেশিনপত্র ঘুরে ঘুরে দেখেন। বাদ যায় না এই বাংকারগুলো। দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর কৌতূহল মেটায় কারখানার প্রবীণ শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে দেখা হয় বাংকারগুলোকে।

তিনি বলেন, ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমির ওপর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুবাহিনী এই কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে ঐ সময় কারখানার ভেতরে অসংখ্য বাংকার তৈরি করা হয়। যার সাতটি এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। ঐ সময় যুদ্ধে সাইরেন বাজলে শ্রমিকরা বাঁচাও বাঁচাও বলে বাংকারে ঢুকে পড়তেন। এ কারখানার ওপর দিয়ে চলে যেত যুদ্ধবিমানগুলো।

ইতিহাস-ঐতিহ্যের শহর সৈয়দপুর। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি বাংকার ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব সংরক্ষণ করা খুবই প্রয়োজন। এছাড়াও ব্রিটিশ আমলের ঐ কারখানাটিতে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন মেশিনপত্র ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন, যা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এসএএস