বামনায় নানাবাড়ি থেকে শিকলমুক্ত হলো কিশোরী

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৮

বামনায় হাফছা আক্তারকে (১৭) গত তিন দিন ধরে শিকল দিয়ে পা বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে তার নানী, খালা ও মামাসহ অন্য আত্মীয়রা। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাইজোড়া গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ঐ কিশোরী পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। এদিকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিবারের লোকজন তাকে শিকলমুক্ত করে।

নির্যাতনের শিকার ঐ কিশোরী জানায়, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। গত ২৮ জুলাই ঐ ছেলের সঙ্গে পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের বিয়ে পড়ানোর আশ্বাস দেন। মেয়েটির মা ও বাবা এলাকায় না থাকায় তিনি ঐ কিশোরীকে দক্ষিণ ভাইজোড়া গ্রামের তার নানী হসিনা বেগম ও খালা হনুফা বেগমের জিম্মায় দেন; কিন্তু যাদের জিম্মায় ঐ কিশোরীকে রাখা হয়েছে তারা তিন দিন যাবত্ গরু বাঁধার শিকল দিয়ে বেঁধে অমানুষিক ও শারীরীক নির্যাতন চালায়। স্থানীয় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার পায়ের শিকল খুলে দেওয়া হয়।

ঐ কিশোরীর মা নূর জাহান বেগম বলেন, মেয়ে এখনো অবুজ। ও যে ছেলেটিকে পছন্দ করেছে সে মাদক মামলার আসামি। তার সঙ্গে মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে দেব না।

ডৌয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। সে মাদক মামলার আসামির সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালাতে চেয়েছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে তার নানী ও খালার জিম্মায় দেই। তারা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অন্যায় করেছে।

বামনা থানার ওসি এস এম মাসুদ্দুজ্জামান বলেন, বিষয়টি এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।