জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবার শীত দেরিতে শুরু হলেও উত্তরের নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পৌষের শেষের দিকে হাঁড় কাপানো শীতে ভুগছে মানুষ। শহরের তুলনায় গ্রামে শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় বয়স্করা ও মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
ডিসেম্বর মাসে স্কুল বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পরিবারের সঙ্গে শীতের আমেজ উপভোগ করলেও কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিম্ন আয়ের মানুষজন চলতি ইরি বোরো মৌসুমের জন্য জমি প্রস্তুত করতে গরুর হাল, ঘোড়ার হাল ও লাঙ্গল নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
কৃষকরা বলছেন, শীতে হাজার কষ্ট হলেও কেউ আমাদের দিকে ফিরেও তাকাবে না। তাই শীতকে জয় করে টিকে থাকতে হবে।
নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর গ্রামে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় চারিদিক ঢেকে গেছে। কাছে থেকেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
পন্ডিতপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম (৬৬) বলেন, শীত নিবারণের সুযোগ ও সামর্থ্য যাদের কম, তারা শীতে বেশি কাবু হয়ে পড়েছে। অসহায় খেঁটে খাওয়া মানুষদের পক্ষে লেপ ও কম্বল কেনা সম্ভব নয়। তাই তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে নিজেদের গরম রেখে কাজে ব্যস্ত থাকেন।
উত্তর দুড়াকুটি পশ্চিমপাড়া রওজাতুল উলুম মাদ্রাসায় দেখা গেছে, শিশু শিক্ষার্থীরা তীব্র শীতের মধ্যে মাঠে খড়কুটো জ্বালিয়ে পড়াশুনা করছে। মাদ্রাসার মহতামিম আরিফ বিল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীরা শীতকে উপেক্ষা করে অনেক কষ্টে পড়াশুনা করছে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে দেশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য শীতবস্ত্র ও কম্বল দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, উপজেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। শীত নিবারণের জন্য গতকাল বিকালে মাদ্রাসাগুলিতে কিছু কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আরও বিতরণ করা হবে। সেই সঙ্গে গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণও চলমান রয়েছে।
