খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৩

রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের চাপ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের অভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। অতিরিক্ত সুদের হার খেলাপি ঋণের অন্যতম কারণ। সম্প্রতি ব্যাংক খাতে সুদের হার কমানো কথা বলা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। বরং সরকারি তহবিলও এখন বেশি সুদে বিনিয়োগ হচ্ছে।

এক সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থাকলেও এখন বেসরকারি ব্যাংক এ রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। আর এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকও যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অনেকেই মনে করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। সময় যত যাচ্ছে খেলাপি ঋণের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ। আর হিসাবের খাতার বাইরের ঋণ অর্থাত্ রাইট অফ করা ঋণের পরিমাণ যোগ করলে এ পরিমাণ আরও বেশি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জুন মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ৫৭টি ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৮ হাজার সাত কোটি টাকা। রাইট অফ করা ঋণ খেলাপি ঋণের সঙ্গে যোগ করলে মোট খেলাপি দাঁড়াবে দেড় লাখ কোটি টাকা।

গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাত্ বছর ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। 

গত জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের। অবশ্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এ সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৪২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণ এক লাখ ৫১ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই সময় তাদের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। 

অন্যদিকে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও। সেপ্টেম্বর শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৪৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এসব ব্যাংক ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বিতরণ করে। যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ৩৮ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

দেশে পরিচালিত ৯টি বিদেশি মালিকানার ব্যাংকে সেপ্টেম্বর শেষে মোট ৩৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা বিতরণ করে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। জুন শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।